নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোক :
আজ শুক্রবার ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’–এর প্রথম সেশনে তিনি বলেছেন, বিগত সরকারগুলোর পতনের অন্যতম কারণ ছিল স্বাধীন গণমাধ্যমকে বিকশিত হতে না দেওয়া৷ দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সের আয়োজক মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)৷
প্রথম সেশনের মূল আলোচিত বিষয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা৷ মাহফুজ আনাম বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিহিত৷ তবে দেশে অতীতে যথেষ্ট পরিমাণে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হয়নি৷ বর্তমানেও হচ্ছে না৷ আর ভবিষ্যতেও হবে কি না, তা নির্ভর করছে সম্পাদকদের ভূমিকার ওপর৷
মাহফুজ আনাম আরো বলেন, ‘‘রাইজ অব এডিটোরিয়াল ইনস্টিটিউশন এবং ইনডিপেনডেন্ট জার্নালিজমই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পূর্বশর্ত৷…দুর্ভাগ্যবশত আমাদের সম্পাদকেরা সেই মানে পৌঁছাতে পারছেন না৷”
সাংবাদিকতাকে রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছে- এমন মত প্রকাশ করে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘‘আমরা যারা সাংবাদিকতা করি, আমরা পেশাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি না বলে আমার ধারণা৷ আমরা খুব সহজেই সাংবাদিকতা করতে করতে রাজনীতির মধ্যে ঢুকে যাই৷ আমরা দেখেছি যে, একটা শাসনকাল যখন থাকে, তখন একদল সাংবাদিক যারা সেই শাসনের পক্ষে থাকে৷ তারা নেতৃত্বের মধ্যে থাকে৷ আর অন্য দলের সাংবাদিকেরা চুপি চুপি ঘুরে বেড়ায় এবং তাদের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে থাকে৷ আবার শাসন যখন বদলায়, তখন সাংবাদিকদের নেতৃত্ব বদলে যায়৷”
‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’–এর প্রথম সেশনে নিজের বক্তব্যের এক পর্যায়ে মাহফুজ আনাম আরও বলেন, রাজনীতির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার একটা বড় প্রভাব রয়েছে৷ উন্নতি করতে হলে ক্ষমতার লড়াই, দুর্নীতির লড়াই এবং সরকারি তহবিল ও সম্পদের অপব্যবহার রুখতে হবে৷ শুধু অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমেই ক্ষমতাকে দায়বদ্ধ করা যায়৷ একমাত্র অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাই সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে এবং সমাজে জবাবদিহি আনতে পারে৷ এটা গণতন্ত্রের বিকাশের প্রাণকেন্দ্র এবং এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি৷
এ অধিবেশনে আলোচক হিসেবে ছিলেন পাকিস্তানের ডন পত্রিকার সম্পাদক জাফর আব্বাস, টরন্টো স্টারের সাবেক সম্পাদক মাইকেল কুক, যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ৷








