নিউজ ডেস্ক,অমৃতালোক:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রথম ভারত সফরে প্রাধান্য পাবে তিন ইস্যু। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্বের নানা দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি অপ্রতুলতা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় দেশে জ্বালানি নিশ্চিতে ভারত থেকে তেল-গ্যাস আমদানির বিষয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা হবে। বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের কনস্যুলারগুলো থেকে ভারতীয়দের জন্য ভিসা প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ভারত কনস্যুলার থেকে বাংলাদেশিদের জন্য স্বল্প পরিসরে ভিসা প্রদান করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ রয়েছে ভারতের ভ্রমণ ভিসা। এ অবস্থায় আগের মতো দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের ভিসা চালুর বিষয়টিও এই সফরের অন্যতম আলোচনার ইস্যু। চলতি বছর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে ভাবছে ভারত। সফরের মূল আলোচনায় এই চুক্তি ও পানির নায্য হিস্যার বিষয়টিও তুলবে বাংলাদেশ। এর বাইরে সীমান্ত হত্যা, সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে ভারতীয়দের পুশইনসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের ভারত সফরে মূলত চারটি বিষয় প্রাধান্য পাবে। যার মধ্যে আছে জ্বালানি, ভিসা, গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি ও সীমান্ত ইস্যু। তবে এর বাইরে দ্বিপাক্ষিক সব বিষয়ই আলোচনায় উঠে আসবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামী ৭ এপ্রিল দুদিনের সফরে দিল্লি যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভারতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটি প্রথম সফর। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তার সফরসঙ্গী হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, দিল্লি সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে’ যোগ দেবেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দিল্লি সফরের প্রথম দিনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আলোচনায় বসবেন। সফরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়কমন্ত্রী হারদ্বীপ সিং পুরির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও ভারত সরকারের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে।
এদিকে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের তলানি অবস্থার ইতোমধ্যে উন্নতি হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন এই মুহূর্তে নেই। দুই দেশই বর্তমানে সম্পর্কের আরও উন্নতি চায়। সেই জায়গায় পারস্পরিক স্বার্থ ও চাওয়া-পাওয়ার ওপর নির্ভর করে আগামী দিনের পথচলা নির্ধারণ করতে চায় ঢাকা-দিল্লি। সেদিক থেকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বাংলাদেশ ও ভারতের আগামী দিনের সম্পর্কের বিষয়ে পারস্পরিক চাহিদার বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরাও। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভিত্তি হবে আত্মমর্যাদা ও সমতা। দুই দেশের বিশ্বাসের জায়গায় যে চিড় ধরেছিল সেটি আবার স্বাভাবিক জায়গায় নিয়ে আসার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে ভারতের নাগরিকদের পুশইন, বর্ডার কিলিং, গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয় আছে। বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতাগুলোও দূর করার উদ্যোগ প্রয়োজন। পারস্পরিক চাহিদা ও সরবরাহের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। বাংলাদেশের দিক থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাওয়া হচ্ছে। ভারতও তাদের পক্ষ থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইছে।
প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী নয়াদিল্লি সফর করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর দিল্লি ও আগরতলায় বাংলাদেশের মিশন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়া আবার চালু হয়েছে। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে কলকাতা-ত্রিপুরা পরিবহণও সীমিত আকারে আবার চালু হয়েছে।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আয়োজনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনে গত ২৬ মার্চ ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং, ভারতের সাবেক কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আয়ার, বিজেপি সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক এম জে আকবর, পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের তিন সাবেক হাইকমিশনার দেব মুখোপাধ্যায়, পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী ও রীভা গাঙ্গুলি দাশসহ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন। উৎসবমুখর এই আয়োজনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করতে ভারতের আগ্রহের কথা প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন








