মার্চ ১, ২০২৬ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

গুগল আনছে এআইয়ের নতুন ভার্চুয়াল জগৎ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) ব্যবহার করে ইন্টারঅ্যাকটিভ বা মিথস্ক্রিয়াপূর্ণ পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় বাস্তব সময়েই ঘোরাফেরার সুযোগ দিচ্ছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইউনিট ‘গুগল ডিপমাইন্ড’ সম্প্রতি ‘প্রজেক্ট জিনি’ নামে একটি ওয়েব-ভিত্তিক গবেষণা প্রকল্প চালু করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা রিয়েল টাইমে বা বাস্তব সময়ে এআইয়ের তৈরি ভার্চুয়াল জগৎ অন্বেষণ করতে পারবেন।

গুগল জানিয়েছে, প্রজেক্ট জিনি মূলত তাদের সাধারণ উদ্দেশ্যভিত্তিক ‘ওয়ার্ল্ড মডেল’ জিনি ৩ এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রতিষ্ঠানটি জিনি থ্রি প্রথম প্রদর্শন করেছিল। তখন এটি কেবল নির্দিষ্ট পরীক্ষকদের জন্য ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও, এখন গুগলের ‘এআই আল্ট্রা’ প্ল্যান গ্রহণকারী নির্দিষ্ট গ্রাহকদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী গ্রাহকরা প্রতি মাসে ২৫০ ডলার সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে এ অভিজ্ঞতা নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। গুগল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এটি আরো বড় পরিসরে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

প্রজেক্ট জিনি ব্যবহারের প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রথমে টেক্সট প্রম্পট বা বার্তা নির্দেশনার মাধ্যমে একটি চরিত্র ও পরিবেশের বর্ণনা দিতে হয়। এ ছাড়া চাইলে নিজস্ব ছবি আপলোড বা জেনারেট করেও জগতের দৃশ্যপট ঠিক করা যায়। চূড়ান্তভাবে প্রবেশের আগে গুগলের ‘ন্যানো ব্যানানা প্রো’ ও ‘জেমিনি’ টুল ব্যবহার করে দৃশ্যটি দেখা ও পরিমার্জনের সুযোগও থাকছে। এরপর ব্যবহারকারী প্রথম বা তৃতীয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গিতে সেই জগতে প্রবেশ করতে পারেন।

এ ভার্চুয়াল জগতের চরিত্রগুলো স্থির থাকে না। ব্যবহারকারী যখন হাঁটেন, উড়েন বা গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে যান, এআই তখন রিয়েল টাইমে নতুন নতুন ভূখণ্ড তৈরি করতে থাকে। এটি কেবল স্থির থ্রিডি দৃশ্য নয়, বরং ব্যবহারকারীর গতির সঙ্গেই দৃশ্যপট প্রসারিত হয়। সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, সিস্টেমটি তার তৈরি করা এলাকাগুলো মনে রাখতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী কোনো পুরনো জায়গায় ফিরে গেলে সেটি আগের মতোই দেখতে পান।

তবে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রচুর কম্পিউটিং শক্তির প্রয়োজন হয়। এ কারণে প্রতিটি সেশন এখন কেবল ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহারকারীকে একটি নিবেদিত প্রসেসিং চিপ দেয়া হয় যা তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা পরিচালনা করে। গুগল তাদের ‘জিনি ৩’ কে একটি শক্তিশালী ‘বিশ্ব মডেল’ হিসেবে অভিহিত করেছে, যা পরিবেশের আচরণ ও কাজের প্রতিক্রিয়া সঠিকভাবে সিমুলেট করতে পারে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ