নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোক:
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত হামে আক্রান্ত অন্তত ২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, টিকাদানের ঘাটতি ও সময়মতো স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এ প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শ্রীবাস পাল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “চলতি বছরের শুরু থেকে হাসপাতালটিতে ছয় শতাধিক হামে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ২২ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। শুধু মার্চ মাসেই পাঁচ শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক শিশু ও বয়স্ক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
ডা. শ্রীবাস পাল আরও বলেন, “বর্তমানে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। নিয়মিত টিকা না পাওয়ায় এবং সতর্কতামূলক স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে রোগটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। কোভিড-কালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে হামের বিস্তার অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।”
সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ১০টি জেলায় হামের প্রকোপ দেখা গেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষরা সতর্ক করেছেন, অভিভাবকরা শিশুদের নিয়মিত টিকা প্রদানের পাশাপাশি জনসমাগম এবং আবর্জনা থেকে দূরে রাখার বিষয়ে সচেতন থাকুন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ। হ্যান্ডওয়াশ, পরিচ্ছন্ন পানি ব্যবহার, নোংরা খাবার এড়ানো ও সময়মতো টিকা শিশুর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ। যদি জনসচেতনতা ও সরকারি প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়, তবে এ প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
এদিকে দেশের অন্যান্য হাসপাতালে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা হাসপাতাল পর্যায়ে পর্যাপ্ত মেডিসিন, আইসোলেশন ইউনিট ও টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা ক্যাম্প, সচেতনতা কর্মসূচি ও জরুরি মনিটরিং কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হয়েছে। তবে অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সতর্ক না হলে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে থাকতে পারে।








