বিনোদন ডেস্ক,অমৃতালোক:
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অংশ হিসেবে প্রকাশিত এই বিবরণীতে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ও খ্যাতনামা নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং তাঁর স্ত্রী জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার আর্থিক খতিয়ান।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও তাঁদের পরিবারের সম্পদের বার্ষিক বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এই তালিকায় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদের খতিয়ান এক কৌতূহলী চিত্র তুলে ধরেছে। এক বছরের ব্যবধানে ফারুকীর ব্যক্তিগত সম্পদ কিছুটা কমলেও তাঁর স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০২৪ সালের ১ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপদেষ্টা ও তাঁদের স্বামী বা স্ত্রীদের ২০২৪ সালের ৩০ জুন এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুনের সম্পদের তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই হিসাবে ২০২৫ সালের ৩০ জুনের পরবর্তী আট মাসের কোনো তথ্য অন্তর্ভুক্ত নেই। অর্থাৎ এটি মূলত গত এক বছরের একটি বার্ষিক আর্থিক চিত্র।
অভিনয় ও বিজ্ঞাপনী চুক্তি থেকে আয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ বা অন্য কোনো খাত থেকে এই সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে কি না, তা নিয়ে বিবরণীতে বিস্তারিত উল্লেখ না থাকলেও অঙ্কটি নজর কাড়ার মতো।
একজন সফল নির্মাতা হিসেবে ফারুকীর আয়ের উৎস বহুমুখী হলেও, গত এক বছরে নির্মাণে ব্যয় বৃদ্ধি বা সম্পদের মূল্যহ্রাস এর পেছনে কারণ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পদ নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা থাকলেও, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপটি সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। ফারুকী ও তিশার সম্পদের এই উত্থান-পতনের চিত্রটি জনসমক্ষে আসা মূলত জবাবদিহিতার সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। যদিও তিশার সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা হচ্ছে, তবে একজন ব্যস্ত অভিনয়শিল্পী হিসেবে তাঁর এই আয় অস্বাভাবিক নয় বলেই মনে করছেন তাঁর ভক্ত-অনুরাগীরা।
অন্যদিকে, সংস্কৃতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে থেকেই ফারুকী ও তিশা দেশের বিনোদন জগতের শীর্ষস্থানীয় দুই মুখ। তাই তাঁদের পারিবারিক সম্পদের এই ওঠানামা মূলত পেশাগত সাফল্যেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অনেকে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এই সম্পদ বিবরণী প্রকাশের মাধ্যমে তারা জনমনে প্রশাসনের প্রতি আস্থা তৈরি করতে চায়। আগামীতে উপদেষ্টাদের সম্পদের পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং জনগণের জন্য তা উন্মুক্ত থাকবে।
ফারুকী-তিশা দম্পতির সম্পদের এই ব্যবধান প্রমাণ করে যে, ব্যক্তিজীবনে স্বামী-স্ত্রীর আর্থিক অবস্থান সম্পূর্ণ স্বাধীন ও গতিশীল হতে পারে। ফারুকীর সম্পদ সামান্য কমলেও তিশার অর্জিত সম্পদ তাঁদের পারিবারিক আর্থিক ভিত্তিকেই মজবুত করেছে। স্বচ্ছতার এই সংস্কৃতি আগামীতে অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্যও উদাহরণ হয়ে থাকবে।








