অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৬:২৮ অপরাহ্ণ

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার সুইডেনে এই ঘোষণা দেওয়ার আগে কারসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দ্য সুইডিশ একাডেমি। তখন তিনি আইসল্যান্ডে বসে বাতাসের শব্দ শুনছিলেন।

পুরস্কার ঘোষণার সময় কারসনের সঙ্গে নিজের আলাপ হওয়ার কথা জানান সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব ইনগ্রিদ কার্লবার্গ। তিনি জানান, কারসনের সঙ্গে তাঁর খুবই সংক্ষিপ্ত আলাপ হয়েছে। পুরস্কারের খবর শুনে কারসন বেশ অবাক। একই সঙ্গে কণ্ঠে খুশির রেশ ছিল। যখন তাঁকে খবরটি জানানো হয়, তখন তিনি আইসল্যান্ডে বাতাসের শব্দ শুনছিলেন।

ধ্রুপদি সাহিত্যধারার সঙ্গে সৃজনশীল ও নিরীক্ষাধর্মী সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ সৃষ্টির সাহসী ও অভিনব কাজের জন্য এই পুরস্কার দেওয়ার কথা জানিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরস্কার ঘোষণা করে দ্য সুইডিশ একাডেমি। প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও হতাশা নিয়ে নিজের লেখাগুলোতে কারসন মহাজাগতিক রহস্যকে রূপকের মাধ্যমে প্রকাশের চেষ্টা করেছেন। এছাড়া পুরোনো ও চিরন্তন বিষয়কে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন।

সুইডিশ একাডেমি জানিয়েছে, শব্দের নতুন অর্থ তৈরির প্রতি একজন কবির আকাঙ্ক্ষার অপূর্ব মিশ্রণ আছে কারসনের লেখায়। প্রয়াত ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর লেখা ‘নক্স’ শিরোনামের কবিতা একটি অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।

বেশ কয়েক বছর ধরে সাহিত্যে সম্ভাব্য নোবেলজয়ী হিসেবে কারসনের নাম শোনা যাচ্ছিল। সমালোচকদের অনেকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এবারের পুরস্কারটি কোনো নারীই পাবেন। কারণ, বিজয়ীদের তালিকায় পশ্চিমা শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের আধিক্য থাকায় সুইডিশ একাডেমি প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরো কর্মজীবনে অ্যান কারসন কবিতা লেখার পাশাপাশি অনুবাদ করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন। ১৯০১ সালের পর থেকে ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অ্যান কারসনসহ এ পর্যন্ত ১৯ জন নারী সাহিত্যে নোবেল পেলেন।

কারসনের বিভিন্ন লেখা নিয়ে একটি পরিচিতি প্রকাশ করা হয়েছে নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে। ১৯৫০ সালে টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করা এই কবি ১৯৮১ সালে ধ্রুপদি সাহিত্যে ‘ওডি এট আমো এরগো সাম’ শিরোনামে ডক্টরাল থিসিস প্রকাশ করেন।

ধ্রুপদি গ্রিক ভাষা থেকে কারসনের করা অনুবাদগুলোকে স্বাধীন সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেছে সুইডিশ একাডেমি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে প্রাচীন গ্রিসের গীতিকবি স্যাফোর খণ্ডিত কবিতার অনুবাদ ‘ইফ নট, উইন্টার’। অনুবাদের তালিকায় আরও আছে- সফোক্লিসের ‘ইলেক্ট্রা’, ‘অ্যান্টিগোন’ ও ইউরিপিদিসের ‘বাখাই’ এর মতো ট্র্যাজেডি নাটক।

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত দীর্ঘ প্রবন্ধ ‘ইরস দ্য বিটারসুইট’-এর মাধ্যমে কারসন তাঁর ভবিষ্যৎ লেখালেখির একটি মজবুত ভিত্তি দাঁড় করান। এই বইয়ের কবিতাগুলোতে চালিকাশক্তি হিসেবে ভালোবাসার দেবতা ইরসকে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখায় প্রেমকে ‘যাতনা ও মাধুর্যের’ অনন্য এক মিশ্রণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

মূলত প্রেমিক ও প্রেমিকার মধ্যকার দূরত্বই প্রেমকে শক্তি জোগায় ও কবিতাকে গতিশীল করে। কারসন তাঁর লেখায় এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে এনেছেন। সুইডিশ একাডেমি লিখেছে, সাহিত্যের বিস্ময়কর ও অপ্রত্যাশিত মেলবন্ধনের মাধ্যমে কারসন প্রথাগত গীতি কবিতার গণ্ডি ভেঙে বেরিয়ে এসেছেন। তাঁর অভিনব লেখার ধরন কৌতুকপূর্ণ ও বিদ্রুপাত্মক সাহিত্যকর্মের জন্ম দেয়।

২০২৫ সালে যিনি পেয়েছিলেন
গত বছর সাহিত্যে নোবেল পান হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। অ্যাপোক্যালিপ্টিক আতঙ্কের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে এমন এক গভীর ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন সাহিত্যকর্মের জন্য তাঁকে পুরস্কারটি দেওয়া হয়।

ক্রাসনাহোরকাই এর জার্মান ভাষার উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’ সম্পর্কে নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, এটি জার্মান সমাজের অস্থিরতাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এতে জার্মানির একটি ছোট্ট শহরে সামাজিক অস্থিরতা, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের কারণে বিপর্যস্ত জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

কবে কোন পুরস্কার
শুক্রবার শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।

পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।

মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ