এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ৪:৩৬ অপরাহ্ণ

অটুট থাকুক পিসির পারফরম্যান্স

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

জ.ই বিদ্যুৎ,সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,অমৃতালোক:

চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে হার্ডওয়্যার বাজারে চলছে চরম সংকট, চাইলেও নতুন পার্টস বা ডিভাইস কেনা সম্ভব হচ্ছে না অনেকের। পুরনো কম্পিউটারও কিনছে কেউ কেউ। পুরনো হার্ডওয়্যারের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে করণীয় জানিয়েছেন জ.ই বিদ্যুৎ

ঝেড়ে ফেলুন অপ্রয়োজনীয় ফিচার

উইন্ডোজ ১০ এখন অতীত। সাইবার নিরপত্তার খাতিরে উইন্ডোজ ১১-তে আপডেট করার নির্দেশনা দিয়েছে মাইক্রোসফট। নতুন অপারেটিং সিস্টেমটি বেশ ভারী, বুট করার পরপরই প্রায় তিন থেকে চার জিবি র‌্যাম দখল করে। উইন্ডোজের নানবিধ ব্যাকগ্রাউন্ড সার্ভিস ব্যস্ত রাখে প্রসেসরকেও।

অষ্টম-দশম প্রজন্মের ইন্টেল অথবা দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্মের এএমডি প্রসেসর এবং ৮ জিবি র‌্যামের পিসিতে উইন্ডোজ ১১ আপডেটের পরপরই দেখা দেয় পারফরম্যান্সের ঘাটতি। উইন্ডোজের অপ্রয়োজনীয় ফিচার বন্ধ করে এ সমস্যা কিছুটা লাঘব করা সম্ভব। উইন্ডোজ ইনস্টলের পরপরই ক্রিস টাইটাসের তৈরি উইন্ডোজ ইউটিলিটি অথবা র‌্যাফায়ারের উইন্ডোজ ডিব্লোটার টুল ব্যবহার করে অপ্রয়োজনীয় ফিচারগুলো সরিয়ে ফেলা যায়। টিনি১১ টুল ব্যবহার করে উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল ড্রাইভ তৈরি করে পিসিতে উইন্ডোজ সেটআপ করলে র‌্যাম ও প্রসেসর অপব্যবহার আরো কমানো সম্ভব।

টুলস ব্যবহারের ঝামেলা এড়াতে অনেকে উইন্ডোজের আইওটি বা এলটিএসসি সংস্করণ ব্যবহার করে, যা মাইক্রোসফটের শর্তাবলির পরিপন্থী। ডিব্লোটার টুলস ব্যবহারে আইনি জটিলতা নেই।

সঠিক সফটওয়্যার নির্বাচন

সাইবার নিরাপত্তার খাতিরে ওয়েব ব্রাউজার ও অন্যান্য ওয়েবসেবা সম্পর্কিত সফটওয়্যারের পাশাপাশি অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করা জরুরি। এর বাইরে অন্যান্য সফটওয়্যার আপডেট করা সব সময় জরুরি নয়।

পুরনো হার্ডওয়্যারে অনেক সময় আগের ভার্সন ব্যবহার করলেই বরং ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যায়। ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, অফিস স্যুট বা প্রিমিয়ার প্রো-এর পুরনো সংস্করণে প্রয়োজনীয় সব ফিচার থাকলে নতুন সংস্করণ ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই। শুধু নিরাপত্তা আপডেট ইনস্টল করলেই চলবে।
পুরনো হার্ডওয়্যারের ওপর চাপ কমাতে ব্যবহার করা যেতে পারে বিকল্প সফটওয়্যার। মাইক্রোসফট অফিসের বদলে লিব্রেঅফিস, ফটোশপের বদলে গিম্প, ইলাস্ট্রেটরের বদলে ক্রিতা অথবা প্রিমিয়ার প্রো-এর বদলে ক্যাপকাট ব্যবহারের প্রসার প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

ভারী কাজের জন্য ওয়েবসেবা ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে পিসির ওপর চাপ কমানো যায়। যেমন—ছবি সম্পাদনার জন্য আছে ফটোপিয়া, গ্রাফিকস ডিজাইনের জন্য ক্যানভা অথবা অফিসের কাজের জন্য আছে গুগল ডকস বা অফিস অনলাইন। অডিও বা ভিডিও ফাইল চালানোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে ভিএলসি বা এমপিসি সফটওয়্যার।

সমস্যার আধুনিক ওয়েব

পুরনো হার্ডওয়্যারের অন্যতম শত্রু আধুনিক ওয়েবসেবা। ডাউনলে‌াড করা ভিডিওর বদলে ইউটিউব বা নেটফ্লিক্স থেকে স্ট্রিম করে ভিডিও দেখার জন্য র‌্যাম ও প্রসেসিং পাওয়ার বেশি প্রয়োজন হয়। ওয়েবপেজ তৈরিতে এখন ব্যবহৃত হয় প্রচুর পরিমাণ সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্ট। অষ্টম প্রজন্মের ইন্টেল কোর এবং তৃতীয় প্রজন্মের এএমডি রাইজেন সিরিজের চেয়ে পুরনো মডেলের প্রসেসরগুলোর জন্য সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্ট রেন্ডার করা কঠিন। ইন্টেল অ্যাটম, পেন্টিয়াম, সেলেরন এবং এএমডির অ্যাথলন, ‘এ’ এবং ‘ই’ সিরিজের প্রসেসরগুলোর জন্যও আধুনিক ওয়েবপেজ রেন্ডার করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। এখন যেসব ওয়েবসেবা অত্যন্ত জনপ্রিয়, যেমন—ইউটিউব, চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, ফেসবুক, ডিসকর্ড বা স্পটিফাই ব্যবহারের জন্য শক্তিশালী প্রসেসর ও র‌্যাম প্রয়োজন। যদি পুরনো হার্ডওয়্যারে এসব সেবা ব্যবহার করতে হয়, সে ক্ষেত্রে ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহার না করাই ভালো। ফায়ারফক্স, পেইল মুন, ওয়াটারফক্স, ব্রেভ বা থোরিয়াম ব্রাউজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

হার্ডওয়্যারের ওপর চাপ কমাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ব্রাউজার এক্সটেনশন। ইউব্লক অরিজিন, প্রাইভেসি ব্যাজার ও অ্যাড ব্লক ব্যবহার করে অযাচিত বিজ্ঞাপন ও পপআপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। ‘এইচ২৬৪-ইফাই’ ও এনহান্স ইউটিউব এক্সটেনশন কাজে লাগিয়ে দুর্বল হার্ডওয়্যারেও ইউটিউব দেখা যাবে নির্বিঘ্নে। ডিস-এবল জাভাস্ক্রিপ্ট এক্সটেনশন কাজে লাগিয়ে অনেক ধরনের ওয়েবসাইটের অপ্রয়োজনীয় ইফেক্টস বন্ধ করা যায়, এতেও প্রসেসরের ওপর চাপ কমে। এসব এক্সটেনশন বেশির ভাগ ওয়েব ব্রাউজারেই ইনস্টল করা যায়। এ ছাড়াও ব্রাউজারের র‌্যাম ব্যবহার কমানোর কিছু সেটিংস আছে, যা ইন্টারনেটে খুঁজলে সহজেই পাওয়া যায়, তবে সেগুলো অনভিজ্ঞদের ব্যবহার না করাই ভালো। সব ওয়েবসাইট সব ধরনের ব্রাউজারে ভালো কাজ করে না, পিসিতে ফায়ারফক্স-ভিত্তিক ও ক্রোমিয়াম-ভিত্তিক, দুই ধরনের ব্রাউজারই রাখা উচিত।

পিসির যত্ন

পিসি স্লো হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ স্টোরেজে অপ্রয়োজনীয় ফাইল জমে যাওয়া। টেম্পোরারি ফাইল পরিষ্কার, অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সরিয়ে ফেলা এবং স্টোরেজের অন্তত ৪০ শতাংশ খালি রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ কাজে সিক্লিনার ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনীয় ফাইল মূল স্টোরেজ ড্রাইভের বদলে অন্য কোথাও রাখা উচিত, যেমন—ক্লাউড স্টোরেজ অথবা এক্সটারনাল হার্ড ডিস্ক/এসএসডি। এতে স্টোরেজও খালি থাকবে, আবার ফাইল হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমবে। সম্ভব হলে পিসির র‌্যাম বাড়ানো উচিত অথবা সিঙ্গেল র‌্যাম থাকলে আরেকটি লাগিয়ে ডুয়াল চ্যানেল করা যেতে পারে। পিসি বাজারে এখনো ব্যবহৃত র‌্যামের মূল্য অস্বাভাবিক বাড়েনি। এ ছাড়াও কুলিং ফ্যান পরিষ্কার করা ও থার্মাল পেস্ট বদলের মাধ্যমেও হারানো পারফরম্যান্স অনেকটা ফিরে পাওয়া সম্ভব। অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীরা ওভারক্লক করতে পারেন, তবে সে ক্ষেত্রে রয়েছে হার্ডওয়্যার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি।

অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম

বিগত বছরগুলোতে পুরনো কম্পিউটারে লিনাক্স ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বিশেষত ইউটিউবে অনেক টেক কনটেন্ট নির্মাতা উইন্ডোজ ছেড়ে লিনাক্স ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন অহরহ। মনে রাখা জরুরি, লিনাক্স সবার জন্য নয়। মাইক্রোসফট বা অ্যাডবির জনপ্রিয় সফটওয়্যারগুলো সরাসরি লিনাক্সে ব্যবহার করা যায় না। অনেক জনপ্রিয় গেম লিনাক্সে খেলার উপায় নেই। একই সমস্যা ক্রোমবুকেও দেখা যায়। ম্যাকওএসে মাইক্রোসফট ও অ্যাডবির সফটওয়্যার ব্যবহার করা গেলেও গেমিংয়ের জন্য একেবারেই আদর্শ নয়। লিনাক্স বা ম্যাকের সফটওয়্যারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে তবেই উইন্ডোজ ছাড়া উচিত, ট্রেন্ডের পাল্লা পড়ে নয়। লিনাক্স ব্যবহারে আগ্রহী হলে লিনাক্স মিন্ট, ব্যাজাইট, জরিন বা ক্যাচিওএস পরখ করা যেতে পারে। ম্যাকওএস ব্যবহার করতে চাইলে কোনো অবস্থাতেই ইন্টেল প্রসেসরভিত্তিক ম্যাক কেনা উচিত নয়, কেননা ২০২৭ থেকে আর এসব কম্পিউটার নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারবে না। অন্তত এম১ বা এ১৮ প্রো প্রসেসরভিত্তিক ম্যাক কিনতে হবে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ