এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ৬:১১ অপরাহ্ণ

হরমুজে জ্বালানিবাহী জাহাজে মাশুল আদায়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ, লেবাননে চলছে হামলা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক,অমৃতালোক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যবস্থাপনায় ‘খুবই দুর্বল’ ভূমিকার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে যে সমঝোতা হয়েছিল, ইরান তা ঠিকভাবে মানছে না।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অভিযোগ করেছেন, ‘শুনেছি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ইরান তেলবাহী ট্যাংকার থেকে টোল (ফি) আদায় করছে।

তারা যেন এমনটা না করে। আর যদি করে থাকে, তবে এখনই তা বন্ধ করতে হবে।’
যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ব্যবস্থাপনার কথা বলে আসছে ইরান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তেহরান কার্যত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বসানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

ট্রাম্প তার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান কিছুটা কমাবে, যাতে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি হামলা কমিয়ে আনতে রাজি হয়েছেন।’

এদিকে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে তার সরকার।

আলোচনার মূল বিষয় হবে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। লেবাননের কর্মকর্তারা আলোচনার আগে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।’

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ছিল।

হিজবুল্লাহর রকেট উৎক্ষেপণস্থল লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে রাতের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে দেখা যায়।
ইসরায়েলি হামলার ফলে বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে নতুন করে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, এই এলাকায় দুটি বড় হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪৫০ রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের সরিয়ে নেওয়া বর্তমানে সম্ভব নয়।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের ব্যাপক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩০৩ জন নিহত এবং ১,১৫০ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, লেবানন সরকার রাজধানী বৈরুতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে হিজবুল্লাহর ওপর লেবানন সরকারের প্রভাব কতটা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও সরকার মার্চ মাসে সংগঠনটির সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল, তবুও তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৮০০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ১৩০ শিশু রয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১২ লাখ মানুষ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ।

পরিস্থিতির এই অনিশ্চয়তার মধ্যে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আবারও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘এটাই একমাত্র সমাধান।’

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ