এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

ঢাকার উত্তরা: উচ্ছেদের পরও একই চিত্র

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোক :

রাজধানীর উত্তরায় ঢাকঢোল পিটিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চালিয়েও কোনো কাজে আসেনি। উচ্ছেদ অভিযানের আগে যে অবস্থা ছিল, এখন আবার সেই একই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে এ চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের রাজলক্ষ্মী-সংলগ্ন ২ ও ৩ নম্বর সড়ক, মহাসড়কের বিএনএস সেন্টার থেকে হাউস বিল্ডিংয়ের নর্থ টাওয়ার, সোনারগাঁও জনপথ রোডের আর্টিসান থেকে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা ১১ ও ১১ নম্বর সেক্টরের জমজম টাওয়ার থেকে কদম চত্বর মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতই আবার দখল হয়ে গেছে।

অভিযানকালে ওই সব এলাকার বৈধ দোকানিদেরকে অবৈধভাবে দখল করা ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সতর্ক করা হয়। আবার কোথাও কোথাও অবৈধভাবে দখল করা ফুটপাত উচ্ছেদ করা হয়। যদিও এর আগে গত ২৪ মার্চ ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে উত্তরাসহ রাজধানীর সব স্থানে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নোটিশ দেওয়া হয়।

ওই এলাকার বাসিন্দারের অভিযোগ, অভিযানের সময় ভয়ে ফুটপাতের হকার ও মার্কেটের দোকানিরা ফুটপাত ও রাস্তাটি দখলমুক্ত করার কারণে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। সেক্টরের বাসিন্দা ও পথচারীদের মাঝে স্বস্তি এসেছিল। কিন্তু অভিযান শেষে প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর আবার দখল হয়ে গেছে।

উচ্ছেদের পর আবারও দোকান বসানো হয়েছে সড়কেও। গতকাল উত্তরার  ট্রপিক্যাল আলাউদ্দিন টাওয়ারের সামনে। ছবি: আজকের পত্রিকা
উচ্ছেদের পর আবারও দোকান বসানো হয়েছে সড়কেও। গতকাল উত্তরার ট্রপিক্যাল আলাউদ্দিন টাওয়ারের সামনে। 

এদিকে বিএনএস সেন্টার থেকে হাউস বিল্ডিং এলাকার নর্থ টাওয়ার পর্যন্ত সড়কের পানির পাম্প ও বিজিবি মার্কেটের দুই পাশের সড়কটিও দখল করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া হাউস বিল্ডিং থেকে সোনারগাঁও জনপথ রোডের খালপাড় পর্যন্ত এলাকার মার্কেটের সামনে ফুটপাত, মার্কেটের দোকানের বর্ধিতাংশ, ফার্নিচার মার্কেটের মালপত্র, খাবার হোটেলের চুলাসহ অন্যান্য মালপত্র ফুটপাতে রেখে দখল করে রাখতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক পুলিশের একজন টিআই (ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি প্রতিনিয়ত রাস্তা দখলমুক্ত করতে অভিযান চালাই। কিন্তু অভিযানের পরপরই আবার দখল হয়ে যায়।’

টিআই বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, এখানে ৪০-৫০ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। যেখানে আমাদের পুলিশ সদস্য, দলীয় নেতা-কর্মী এবং ফুটপাতের চাঁদাবাজেরা জড়িত। যার কারণে চাইলেও তাদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছি না।’

আবার দখলের ছবি পাঠালেও মানতে নারাজ ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম ট্রাফিক জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাবিয়ান মিঞা। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আপনি প্র্যাকটিক্যালে দেখান। ছবি পাঠালে তো হবে না, কয়েক দিন আগেরও ছবি হতে পারে। আমি যেতে যেতে দেখব—নাই।’

এদিকে ট্রাফিক উত্তরা পূর্ব জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাহবুবুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। জানা যায়, তিনি ছুটিতে আছেন। পরে মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে ট্রাফিক বিমানবন্দর জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হাসিবুর রহমান বাদল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অভিযানকালে আমরা দোকানের বর্ধিতাংশ এবং ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দিয়েছিলাম। আবার ফুটপাত দখলের কারণটি আপনি আমার থেকে ভালো জানেন।’

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘সকালে কোনো দোকান বসে না। পরে হয়তো আস্তে আস্তে বসে। তারপরও আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’

এসি বাদল বলেন, ‘আমাদের ট্রাফিকের লোকজন কম। তাই অভিযানকালে থানার লোকজন হেল্প করেন। আমরা কি মোড়ে দাঁড়িয়ে যানজট নিরসরণ করব, নাকি অভিযান চালাব। আমাদের নিজস্ব কোনো গাড়িও নেই যে অভিযান চালানোর পর মালামাল নিয়ে যাব।’

আবার দখল প্রসঙ্গে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আনোয়ার সাঈদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি ট্রেনিংয়ে আছি। বিষয়গুলো দেখছি, দেখব।’

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ