নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২:৪১ পূর্বাহ্ণ

এইচএসসি পরীক্ষায় কাংখিত ফল পায়নি বোরহানউদ্দিনের চার কলেজ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

গাজী তাহের লিটন, অমৃতালোক:

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কলেজগুলোর ফলাফলও যেন এক চরম শিক্ষাবিপযয়ের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। হতাশা ব্যক্ত করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী মহল।

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশজুড়ে নজিরবিহীন ফল বিপর্যয় ও শতভাগ ফেল করা কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার নাটকীয়ভাবে কমে প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে, যার ফলে প্রায় ৬ লাখের মতো শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে। এই ব্যাপক অকৃতকার্যতার ধাক্কায় দেশের অসংখ্য কলেজ “ফেলের পাহাড়” মাথায় নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। এরমধ্যে মফস্বলের বেশকিছু স্বনামধন্য কলেজ কাংখিত ফল পায়নি।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার চারটি কলেজে পরীক্ষার্থীর তুলনায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর পাহাড়সম সংখ্যা এবং জিপিএ-৫ এর চরম আকাল দেখে হতবাক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিগত সময়ে এমন চিত্র কখনোই দেখা যায়নি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের একযোগে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর সারাদেশে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ কম। বোরহানউদ্দিন উপজেলার কলেজগুলোর চিত্র আরও বেশি উদ্বেগজনক।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার কলেজগুলোতে প্রকাশিত এবারের এইচএসসি পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করলে যে চিত্র বেরিয়ে আসে তা নিম্নরূপ:

সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজ: ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর ৭২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেছেন মাত্র ২৬৪ জন। এর বিপরীতে বিশালসংখ্যক অর্থাৎ ৪৫৬ জন শিক্ষার্থীই ফেল করেছেন, এবং জিপিএ-৫ এসেছে মাত্র ৩টি। পাসের হার ৩৯.২৯%।

বোরহানউদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজ: নারী শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানে ১৮৪ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন মাত্র ৭৩ জন। এখানেও ১১১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ১ জন। পাসের হার ৪১. ৭১%।

হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয়: এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৬১ জন পাস করলেও ফেল করেছেন ৪১ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৬০%। সবচেয়ে বড় হতাশার বিষয় হলো, এই কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।

কাচিয়া টবগী ইপি (ডিগ্রি) কলেজ : এ কলেজটির ফলাফল আরও বেশি শোচনীয়। ২১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেছেন মাত্র ৫৯ জন, আর ১৫৪ জন শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। এখানেও কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫ এর খাতা শূন্য রয়েছে। পাসের হার ২৮. ২৭%।

উপজেলার কলেজগুলোতে এমন ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করা এবং ফলাফলের এই ধস দেখে বোরহানউদ্দিনের অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী মহল চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার অভাব, পাঠদানের মান হ্রাস এবং সার্বিক নজরদারির অভাবেই আজকের এই ফলাফল।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের যে সকল কারণগুলো শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল ও সচেতন অভিভাবক মহল তুলে ধরছেন, এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:এবার উত্তরপত্র অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং অতীতে দেওয়া “গ্রেস মার্কস” বা অতিরিক্ত সুবিধা এবার না থাকায় পাসের হার কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা ও পাস-ফেলের কড়াকড়ি না থাকা এবং মাধ্যমিক স্তরে সঠিক তদারকির অভাবকে অনেকে এই ফলাফলের জন্য দায়ী করছেন।
এছাড়া, মফস্বলের কলেজগুলোতে বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষক না থাকা এবং নিয়মিত পাঠদান না হওয়া এই ধসের অন্যতম প্রধান কারণ।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ