নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক, অমৃতালোক:

ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করতে নৈরাজ্য সৃষ্টির চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র চলছে; সরকারের কাছে এমন স্পষ্ট বার্তা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও সরকারকে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান পরিস্থিতির নেপথ্যে মূল ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে বহুমুখী তত্পরতা চালানোর চেষ্টা করতে পারে বলেও সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে।

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সরকার নিজ দলীয় সাংগঠনিক উত্স থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছে। সরকার ও বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, এসব তথ্যের ভিত্তিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশব্যাপী বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও গোপালগঞ্জের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে। এছাড়া, বিদ্যুেকন্দ্র, ব্যাংক ও কেপিআইভুক্ত স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে তৈরি পোশাক শিল্পে অস্থিরতা নিয়ে রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ডাকা জরুরি বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। ডিসেম্বর সামনে রেখে দেশে যাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো চক্রান্ত সফল হতে না পারে—সেজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও করণীয় নিয়েও আলোচনা হয় ঐ বৈঠকে।

সরকারের কাছে এমন তথ্যও রয়েছে যে, চলমান অস্থিরতার নেপথ্যে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের কতিপয় নেতা সম্পৃক্ত রয়েছেন। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা ও ব্যবসায়ী তৈরি পোশাক কারখানার মালিক তাদেরও সরাসরি ইন্ধন রয়েছে। এছাড়া, অন্যান্য খাতের আওয়ামী লীগ-সমর্থক কিছু ব্যবসায়ীও এতে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। শ্রমঘন এলাকাগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অন্যতম রপ্তানীমুখী শিল্প তৈরি পোশাক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিই এর মূল লক্ষ্য। এ কারণে সন্দেহভাজন এসব শ্রমিকনেতা ও ব্যবসায়ীদের ইতিমধ্যে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ডাকা জরুরি বৈঠকের আলোচনা এবং দলীয় ও বিভিন্ন উত্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মহলের ইন্ধন রয়েছে। এই অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে কিছু শিল্পমালিকও জড়িত। যাদের কেউ কেউ বিগত সরকারের আমলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্য ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ-ও বলেছেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি- অনেক মুখোশধারী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করছে। আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। নিরীহ গার্মেন্ট শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে, যাতে এখানে একটি অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়, দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে ব্যাহত করা যায়, গার্মেন্টসের উত্পাদনকে ব্যাহত করা যায়।’ তার দাবি, চলমান সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের তেমন সম্পৃক্ততা নেই। গত কয়েক দিনের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং শিল্প খাত ধ্বংস করতে সুযোগসন্ধানীরা মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনস্থলে অনুপ্রবেশ করেছে এবং ভুয়া স্লোগান দিয়ে সহিংসতা ছড়াচ্ছে।

সরকার ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর সামনে রেখে নৈরাজ্য সৃষ্টির সব ধরনের অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের মিত্র দল-জোটগুলোও সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে রাজপথে সক্রিয় থাকবে। যার প্রতিফলন দেখা গেছে গতকাল সাভারের আশুলিয়ায়। শ্রমিক অসন্তোষের নামে বিশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে গতকাল সকাল থেকে আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে জিরাবো এলাকা পর্যন্ত সড়কে টহল দিয়েছেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।

তবে, নৈরাজ্য প্রতিরোধ করতে গিয়ে দল ও মিত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা নিজেরা যেন কোনো ধরনের সংঘাত-সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়েন; বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শ্রমিকদের জান-মালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রকৃত ও নিরীহ শ্রমিকদের কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন সেই নির্দেশনাও দিয়েছেন সরকারপ্রধান। যার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চলমান সহিংস আন্দোলনের কারণে যারা গ্রেফতার হয়েছেন, তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত শ্রমিকদের মুক্তির ব্যবস্থা করবে সরকার।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আন্দোলনের মাঠ কাউকে ‘মৌরসি পাট্টা’ (পুরুষানুক্রমে ভোগ দখলের বন্দোবস্ত) দেওয়া হয়নি। আন্দোলনের নামে সংঘাত সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি যানবাহনে আগুন দেওয়া ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বেশিরভাগই পরাজিত শক্তির দোসর। বিএনপি এটিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ