অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে আবারও আটক, দুই দিনে তৃতীয়বার

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক,অমৃতালোক:
ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে আবারও আটক হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। বুধবার (৭ অক্টোবর) নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় তাদেরসহ কয়েকজন বিরোধী সংসদ সদস্যকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।

এ নিয়ে মাত্র দুই দিনের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো পুলিশের হেফাজতে গেলেন রাহুল গান্ধী। এর আগে মঙ্গলবারও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার সময় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার যন্তর মন্তরে কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। কিন্তু সেখানে বিক্ষোভের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে দাবি করে পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়।

দুপুরে মধ্য দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় বৈঠক ও খাবার শেষে রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী সংসদ সদস্যরা যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের বহনকারী বাস আটকে দেয় পুলিশ। প্রথমে রাহুলসহ কয়েকজন নেতাকে বাসে তুলে নেওয়া হয়। পরে অন্য নেতাদেরও আটক করতে গেলে ইন্ডিয়া জোটের কয়েকজন নেতা বাস থেকে নেমে রাস্তায় বসে পড়েন।

পুলিশ তাদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানালেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা সেখান থেকে সরেননি। একপর্যায়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাস্তায় শুয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাদের দুজনকেই বাসে তুলে নেয়।

এর আগে বুধবার জনপথ এলাকার একটি রেস্তোরায় বৈঠক করেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ডাকে আয়োজিত ওই বৈঠকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে খাড়গে অভিযোগ করেন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।

বৈঠক শেষে সংসদ সদস্যরা বাসে করে যন্তর মন্তরের দিকে রওনা হন। তবে ওই এলাকার দিকে যাওয়ার বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে দেয় পুলিশ। ফলে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর আগেই তাদের বাস থামিয়ে দেওয়া হয়।

দিল্লি পুলিশের ভাষ্য, যন্তর মন্তরে কোনো ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের আগে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কর্মসূচির অন্তত ১০ দিন আগে নয়াদিল্লি জেলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের কাছে এ জন্য আবেদন করতে হয়। কংগ্রেস বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এবার এমন অনুমতি নেয়নি বলে দাবি পুলিশের।

তবে রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধী সংসদ সদস্যরা যন্তর মন্তরেই অবস্থান নেবেন। তার দাবি, প্রায় ৩০০ জন সংসদ সদস্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে গিয়ে কোনো ধরনের বিক্ষোভ করা যাবে না।

রাহুল বলেন, তাদের কর্মসূচি ছিল নির্ধারিত স্থানে গিয়ে একসঙ্গে বসা এবং ভোটার তালিকা নিয়ে তাদের বক্তব্য জনগণের সামনে তুলে ধরা। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে তারা বৈধ নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মানেন না।

রাহুল আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমারের মধ্যে যোগসাজশের কারণে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবারও নির্বাচন কমিশনের সদরদপ্তরের দিকে যাওয়ার সময় বিরোধী সংসদ সদস্যদের বাধা দেয় পুলিশ। পরে আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। সেখান থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয়।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ