অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

আজ মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা: চিন্তিত ভোলার দুই লাখ জেলে পরিবার

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

​

​ইয়ামিন হোসেন, অমৃতালোক :

মা ইলিশ রক্ষা ও নিরাপদ প্রজনন সুনিশ্চিত করতে আজ মধ্যরাত থেকে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ভোলার উপকূলের হাজার হাজার জেলে ট্রলার ও নৌকা নিয়ে তীরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে প্রজনন মৌসুম রক্ষায় সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও নিষেধাজ্ঞাকালীন কাঙ্ক্ষিত খাদ্য সহায়তা সঠিক সময়ে না পাওয়া নিয়ে শঙ্কা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জেলেরা।

​বুধবার ভোলার বিভিন্ন মাছঘাট ও নদীর তীর সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে ফিরছে। জেলেরা জাল সেলাই, ট্রলার নোঙর করা ও নৌকা বাঁধাসহ নদী থেকে ফেরার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইলিশের বংশবৃদ্ধির স্বার্থে আগামী ২২ দিন তারা ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য শিকার থেকে পুরোপুরি বিরত থাকবেন।

​তবে কর্মহীন এই ২২ দিন পরিবার-পরিজন নিয়ে কিভাবে দিন কাটবে—তা নিয়ে দিশেহারা জেলার প্রায় দুই লাখ জেলে। স্থানীয় জেলেদের বড় একটি অংশ জানান, বছরের এই সময়টিতে কাজ বন্ধ থাকায় তাদের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই চালসহ বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তার সুষ্ঠু বণ্টন এবং তা সঠিক সময়ে হাতে পাওয়া জরুরি।

​তজুমদ্দিন উপজেলার এক জেলে অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে তীরে আসছি। মাছ রক্ষা হলে দিনশেষে আমাদেরই লাভ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিন পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার মতো কোনো বিকল্প পথ আমাদের নেই। আমরা চাই সরকারি সাহায্যটা যেন কোনো রকম স্বজনপ্রীতি ছাড়া একদম সঠিক সময়মতো আমাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।”

​জেলেদের খাদ্য সংকট ও উদ্বেগের বিষয়ে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসাইন জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকারের নির্ধারিত খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ চাল) যথাসময়ে সুনির্দিষ্ট তালিকা অনুযায়ী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কোনো প্রকৃত জেলে যেন এই সহায়তা পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

​উল্লেখ্য, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে প্রতি বছর ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়াসহ দেশের উপকূলীয় মূল পয়েন্টগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ