সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

দৈনিক অমৃতালোকের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে ভোলা জেলা প্রশাসক ডা.শামীম রহমান

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন — এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অবস্থান আপসহীন
প্রত্যেক জেলার মানুষের তাদের জেলা প্রশাসক সম্পর্কে জানার আগ্রহ ও কৌতুহল সবসময়েই পরিলক্ষিত। ভোলা জেলা প্রশাসক ডা.শামীম রহমান ভোলায় যোগদানের পর বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকান্ড ও সাম্প্রতিক সময়ে ভোলার কিছু ইস্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে । ভোলাবাসী এসব বিষয়ে তার কাছ থেকেই প্রকৃত ও সত্য তথ্য জানতে চায় । দৈনিক অমৃতালোক সম্পাদক আলহাজ্ব এম এ আহাদ চৌধুরী তুহিন গতকাল শনিবার (১৫ আগষ্ট) মুখোমুখি হয়েছিলেন ভোলা জেলা প্রশাসক ডা.শামীম রহমানের সাথে । কথা বলেছেন বিভিন্ন বিষয়ে । অমৃতালোকের পাঠকদের জন্য তাদের আলাপচারিতা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো ।
প্রশ্ন-১ : আপনার জন্ম, শৈশব, ছাত্রজীবন, কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবন সম্পর্কে যদি কিছু বলেন ।
ডা.শামীম রহমান : শুরুতেই দৈনিক অমৃতালোক পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই।
আমার জন্ম ১৯৮৩ সালে। নিজ জেলা মানিকগঞ্জ — দৌলতপুর উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামে আমাদের পৈতৃক ভিটা। বাবা মোঃ বদিয়ার রহমান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী, মা ফিরোজা রহমান গৃহিণী। বাবার চাকরিসূত্রে শৈশবের বড় অংশ কেটেছে ঢাকায়। মানিকগঞ্জ ও যমুনা-পদ্মার ভাঙনপ্রবণ জনপদ — নদী কীভাবে একটি পরিবারের ভিটেমাটি ও ভবিষ্যৎ একসঙ্গে নিয়ে যায়, সেটি আমার শৈশবের অচেনা বিষয় ছিল না। ভোলার ভাঙনকবলিত মানুষের কষ্ট আমি তাই কেবল ফাইলের ভাষায় নয়, কিছুটা ব্যক্তিগত বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেও অনুভব করি। খানিকটা জীবন থেকে নেওয়ার অভিজ্ঞতার মত বলা চলে।
ছাত্রজীবনে বনানী বিদ্যানিকেতন থেকে এসএসসি এবং নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করি — উভয়টিই বিজ্ঞান বিভাগে। এরপর সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করি; কলেজটি তখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। পরে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর (মাস্টার অব পাবলিক হেলথ) সম্পন্ন করি।
চিকিৎসক হয়ে প্রশাসনে কেন — এ প্রশ্ন আমাকে অনেকেই করেন। আমার উত্তরটি সহজ। চিকিৎসাবিদ্যা আমাকে শিখিয়েছে ব্যক্তিকে সারিয়ে তোলা; জনস্বাস্থ্য শিখিয়েছে জনগোষ্ঠীকে সুস্থ রাখা। আমি দেখেছি, একজন মানুষের অসুস্থতার পেছনে অনেক সময় দায়ী থাকে বিশুদ্ধ পানির অভাব, দারিদ্র্য, দুর্যোগ কিংবা অন্যবিধ। বৃহত্তর পরিসরে মানুষের জীবনমান বদলানোর কাজে আসতে পারবো ভেবেই আমি সিভিল সার্ভিসকে বেছে নিই।
কর্মজীবন: বিসিএস (প্রশাসন) ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগদান করি। কাকতালীয়ভাবে কর্মজীবনের সূচনাও সেই সিলেটেই — সহকারী কমিশনার হিসেবে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। যে শহরে ছাত্র হিসেবে জীবনের ছয়টি বছর কাটিয়েছি, সেখানেই প্রশাসনের প্রথম পাঠ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। এরপর গাজীপুর, ঢাকা, নরসিংদীতে বিভিন্ন পদে এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও-এ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।
মাঠপ্রশাসনের পর দীর্ঘ সময় কাজ করেছি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন — দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নীতি ও বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়া আমি সেখান থেকেই ভেতর থেকে দেখেছি। ভোলার মতো উপকূলীয় দ্বীপজেলায় দায়িত্ব পালনে এই অভিজ্ঞতাই আমার সবচেয়ে বড় পুঁজি।
এর মাঝে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে উপপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি — প্রত্নস্থল খনন, জরিপ, নিদর্শন নথিভুক্তকরণ ও সংরক্ষিত পুরাকীর্তির সংরক্ষণকাজে সরাসরি মাঠপর্যায়ে যুক্ত ছিলাম। এরপর ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপসচিব হিসেবে কাজ করে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ভোলার জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করি।
দেশে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিপিএটিসি, বিয়াম ও এনএপিডি-তে আইন-প্রশাসন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা ও পিপিপি বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়েছি। বিদেশে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর গুড গভর্ন্যান্স (NCGG)-এ মিড-ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ এবং ইতালির ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হিউম্যানিটেরিয়ান ল-তে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন বিষয়ক কোর্স সম্পন্ন করেছি।
আমার স্ত্রী তাবাসসুম মেহনাজ জাহান এবং আমরা তিন পুত্রসন্তানের বাবা-মা। অবসরে বই পড়া, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব চর্চা এবং ভ্রমণ ভালো লাগে।
প্রশ্ন-২ : ভোলার জেলা প্রশাসক পদে যোগদানের পূর্বে ভোলার ভৌগলিক,আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে আপনি কেমন ধারনা পোষন করতেন ?
ডা.শামীম রহমান : ভোলা সম্পর্কে আমার প্রাথমিক ধারণা তিনটি পরিচয়কে ঘিরে ছিল।
ভৌগোলিকভাবে — ভোলা দেশের একমাত্র দ্বীপজেলা। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া দুই দিক থেকে জেলাটিকে ঘিরে রেখেছে; উত্তরে পলি জমে চর জাগে, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। অর্থাৎ ভোলা একই সঙ্গে নদীর দান এবং নদীর ঝুঁকি — এই দ্বৈততা নিয়েই জেলাটির অস্তিত্ব।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সুবাদে ভোলা আমার কাছে পরিচিত ছিল আরও নির্দিষ্টভাবে — ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), আশ্রয়কেন্দ্র, বেড়িবাঁধ ও ভাঙনজনিত জরুরি সহায়তার নথিতে ভোলার নাম নিয়মিত আসত। ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের অভিজ্ঞতা এ দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাটিকেই গড়ে তুলেছে — ভোলা সেই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু।
আর্থসামাজিকভাবে — ইলিশ, কৃষি , মহিষ ও গবাদিপশুনির্ভর চর অর্থনীতি, আর প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল মজুদ — এসব নিয়ে ভোলা সম্ভাবনার জেলা। শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ ও ইলিশা — এই তিন গ্যাসক্ষেত্র মিলিয়ে ভোলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুদ রয়েছে; ইলিশা দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃত। অথচ শিল্পায়ন সেই তুলনায় পিছিয়ে — এটিও আমার জানা ছিল।
রাজনৈতিকভাবে — ভোলার মানুষ রাজনীতি-সচেতন, সংগঠিত এবং নিজেদের দাবির বিষয়ে সোচ্চার। আমি এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখি; সচেতন জনগোষ্ঠী প্রশাসনকে জবাবদিহির মধ্যে রাখে।
সব মিলিয়ে যোগদানের আগে ধারণা ছিল — ভোলা এমন একটি জেলা যেখানে সমস্যা আছে, কিন্তু সমস্যার চেয়ে সম্ভাবনা বড়।
প্রশ্ন-৩ : গত নয় মাসে বাস্তব পর্যবেক্ষণ কেমন ?
ডা.শামীম রহমান : গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫-এ যোগদানের পর প্রায় নয় মাস অতিক্রান্ত হলো। এ সময়ে যতটা সম্ভব উপজেলা ও চরাঞ্চলে গিয়েছি, ভাঙনকবলিত এলাকায় সরাসরি মানুষের কথা শুনেছি। কয়েকটি পর্যবেক্ষণ:
প্রথমত, ভোলার মানুষের সহনশীলতা অসাধারণ। যিনি তিনবার ভিটে হারিয়েছেন, তিনিও চতুর্থবার ঘর তোলার কথা বলেন। এই মনোবলই এ জেলার সবচেয়ে বড় সম্পদ।
দ্বিতীয়ত, সমস্যাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, পরস্পরসংযুক্ত। নদীভাঙন কেবল ভূমি হারানো নয় — এটি একই সঙ্গে গৃহহীনতা, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া, খাসজমি ও বন্দোবস্ত-সংক্রান্ত বিরোধ এবং শহরমুখী অভিবাসনের কারণ। তাই বিচ্ছিন্ন সমাধান কাজ করে না; সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার।
তৃতীয়ত, যোগাযোগই সবচেয়ে বড় কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। নদীপথনির্ভরতার কারণে পণ্য পরিবহনের ব্যয় ও সময় বেশি, যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে।
চতুর্থত, স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা নিয়ে আমার আলাদা উদ্বেগ আছে। চিকিৎসক হিসেবে আমি জানি, দুর্গম চরাঞ্চলে একজন প্রসূতি বা জরুরি রোগীর জন্য নদী পার হয়ে হাসপাতালে পৌঁছানো কতটা কঠিন। জনবল ঘাটতি ও রেফারেল ব্যবস্থার দুর্বলতা এখানে বাস্তব সমস্যা। সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত বসে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণের চেষ্টা করছি।
পঞ্চমত, দাপ্তরিক সমন্বয়ের সুযোগ প্রচুর। পাউবো, বিআইডব্লিউটিএ, মৎস্য, কৃষি, বন, এলজিইডি — সবাই কাজ করছে, কিন্তু একই ভৌগোলিক সমস্যার ওপর একসঙ্গে বসলে ফল অনেক বেশি হয়। জেলা প্রশাসনের ভূমিকা এখানেই — সমন্বয়কের।
ষষ্ঠত, সেবাপ্রত্যাশীদের একটি বড় অংশ এখনো নানা বিষয়ে দালালনির্ভরতায় ভোগেন। গণশুনানি, ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র ও অনলাইন সেবার প্রচার বাড়িয়ে এটি কমিয়ে আনা সম্ভব — সে কাজ চলছে।
প্রশ্ন-৪ : সাম্প্রতিক সময়ে ভোলার বার্নিং ইস্যু হচ্ছে নদী ভাঙ্গন ও নদী থেকে বালি উত্তোলন। এ বিষেয়ে প্রকৃত চিত্র বা তথ্য কি ?
ডা.শামীম রহমান : এটি এখন ভোলার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। আমি স্পষ্ট করে কয়েকটি কথা বলতে চাই।
(ক) নদীভাঙনের বাস্তব চিত্র
ভোলার ভাঙন মূলত মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর গতিপ্রকৃতিজনিত। সাম্প্রতিক সময়ে ভোলা সদরের শিবপুর, রাজাপুর ও ইলিশা, দৌলতখানের মেদুয়া, বোরহানউদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরার কিছু অংশে ভাঙন তীব্র হয়েছে। জুন-জুলাই মাসে শিবপুর ও মেদুয়া এলাকার ভাঙন রোধের দাবিতে স্থানীয় জনগণের কর্মসূচিও হয়েছে — তাঁদের ক্ষোভ অযৌক্তিক নয়, ভাঙন তাঁদের বাস্তব ভোগান্তি।
গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসনের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড সরেজমিন পরিদর্শন করে ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। সেই প্রতিবেদনের তথ্যই আমি ভোলাবাসীর সামনে তুলে ধরছি — অনুমান নয়, কারিগরি পর্যবেক্ষণ:
ভোলা জেলার পূর্বপাশ ঘেঁষে প্রবাহিত মেঘনার তলদেশ অত্যন্ত পরিবর্তনশীল (Dynamic) এবং নদীতীর ভাঙনপ্রবণ। উচ্চ গতির প্রবাহ ও তীর্যক স্রোতের আঘাত এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে নদীর তলদেশে গভীর স্কাওয়ার (Scour) সৃষ্টি হয়ে তীর ভেঙে পড়ছে।
অমাবস্যা-পূর্ণিমার ভরা কোটাল, ভারী বর্ষণ ও উপকূলীয় বায়ুচাপের তারতম্যে সৃষ্ট শক্তিশালী ঢেউয়ের আঘাতে বিদ্যমান বাঁধের ঢাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য — অনেক স্থানে বাঁধ থেকে নদীর সেটব্যাক দূরত্ব আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে; পোল্ডার নং ৫৬/৫৭-এর বিদ্যমান বাঁধ, জনবসতি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে।
বিদ্যমান বাঁধ থেকে ভোলা শহর মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে, আর বাঁধের শীর্ষ ভূমি সমতল থেকে মাত্র প্রায় ২.৫ মিটার উঁচু। অর্থাৎ বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে কেবল কয়েকটি গ্রাম নয় — ভোলা শহরসহ নিকটবর্তী জনপদ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বিষয়টির গুরুত্ব এখানেই।
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিবপুর ইউনিয়নের মাছঘাট এলাকায় ৫০০ মিটার জায়গায় জিও-ব্যাগ ডাম্পিং করে পূর্বসতর্কতামূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঢেউটিন, নগদ অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং গৃহহীনদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম চলমান।
আমি অকপটে স্বীকার করি — চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। ভাঙনের বিরুদ্ধে টেকসই সমাধান কেবল জরুরি ডাম্পিং নয়; প্রয়োজন নদীশাসনের দীর্ঘমেয়াদি ও অববাহিকাভিত্তিক পরিকল্পনা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে এই প্রক্রিয়াটি আমার জানা — জেলা প্রশাসন থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন ও প্রকল্প-প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং আমরা নিয়মিত তদবির করছি।
(খ) সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি: শিবপুর-ধনিয়া-মেদুয়া প্রকল্প
এখানে একটি হালনাগাদ তথ্য ভোলাবাসীকে জানানো প্রয়োজন। “মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা” শীর্ষক প্রকল্পটি গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে একনেক সভায় উপস্থাপিত হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে, প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৮৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা, বাস্তবায়নকাল মার্চ ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০।
প্রকল্পে কী কী কাজ থাকছে, তা-ও স্পষ্ট করে বলি:
কাজ ও পরিমাণ
নদীতীর সংরক্ষণ (কংক্রিট সিসি ব্লক) : ৪.০০ কি.মি.
উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন : ৬.০০ কি.মি.
বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ : ৫.২০ কি.মি.
আধুনিক পানি নিষ্কাশন কাঠামো (শিবপুর ও আজিমাবাদ) :২টি
একনেক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হালনাগাদ রেট শিডিউল অনুসারে ব্যয় পুন:প্রাক্কলন করে ডিপিপি পুনর্গঠনপূর্বক প্রকল্পটি পরবর্তীতে একনেক সভায় পুনরায় উপস্থাপন করতে হবে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের পত্রে এ সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছে।
প্রকল্পটি বাতিল হয়নি; এটি প্রক্রিয়াধীন। রেট শিডিউল হালনাগাদজনিত কারণে ব্যয় পুনর্নির্ধারণ একটি রুটিন প্রশাসনিক ধাপ। এই প্রকল্পের কারিগরি ভিত্তি দুর্বল নয় — পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ জরিপ এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM)-এর কারিগরি সমীক্ষা প্রতিবেদনের আলোকে ডিপিপি প্রণীত হয়েছে। ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে চলমান। জেলা প্রশাসন থেকে আমি নিজে বিষয়টি নিয়মিত অনুসরণ করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি পুনরায় একনেকে উপস্থাপন ও অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এই প্রকল্পটি অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়ার হাজারো পরিবারের ভিটেমাটি এবং ভোলা শহরের সুরক্ষা স্থায়ী রূপ পাবে — এটি ভোলার জন্য একটি মাইলফলক হবে।
(গ) বালু উত্তোলন — বিভ্রান্তি ও প্রকৃত অবস্থা
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য পরিষ্কার হওয়া দরকার, কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি ভিন্ন বিষয়কে এক করে ফেলা হচ্ছে:
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নাব্যতা রক্ষার ড্রেজিং — এটি নৌপথ সচল রাখতে আইনসিদ্ধ ও পরিকল্পিত কার্যক্রম।
অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন — এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অবস্থান আপসহীন।
আইনগত অবস্থান স্পষ্ট: বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর বিধান অনুযায়ী ইজারাবিহীন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ।
গৃহীত ব্যবস্থা — এবং এখানে আমি সুনির্দিষ্ট থাকতে চাই:
বালুমহালের জন্য আলাদা রোস্টার: বালুমহাল বিষয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য রোস্টারভিত্তিতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আদেশ জারি করেছি। অর্থাৎ এটি আর কেবল অভিযোগ পেলে সাড়া দেওয়ার বিষয় নয় — এটি এখন একটি নিয়মিত, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি।
সরেজমিন পরিদর্শন: গত ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আমি নিজে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর এবং কোস্টগার্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে জেলার সবগুলো বালুমহাল সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। কাগজে-কলমে নয়, নিজের চোখে দেখে বাস্তবতা যাচাই করেছি।
অভিযানের ফলাফল: নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। গত দেড় মাসে ২০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ অভিযান চলমান থাকবে — কোনো বিরতি নেই।
যৌথ ও রাত্রিকালীন টহল: নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে টহল জোরদার করা হয়েছে, কারণ অভিযোগের বড় অংশই রাতের।
আন্তঃসংস্থা সমন্বয়: জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে কার্যকর আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি সংস্থা নিজ নিজ এখতিয়ারে আলাদাভাবে এবং প্রয়োজনে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেবে। অর্থাৎ অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের জন্য এখন একাধিক স্তরে জবাবদিহির ব্যবস্থা রয়েছে।
আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই — অবৈধ বালু উত্তোলন কোন অবস্থাতেই চলতে পারবে না।
তবে একটি কথা সংবাদমাধ্যমের বন্ধুদের কাছে বিনীতভাবে বলতে চাই। যথাযথ প্রক্রিয়ায় ইজারাপ্রাপ্ত বালুমহাল থেকে বৈধ বালু উত্তোলনকেও কখনো কখনো অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে — এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই সরকারি সংস্থাগুলোকে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে। এটি হতাশাব্যঞ্জক। ইজারা একটি আইনসিদ্ধ রাজস্ব প্রক্রিয়া; বৈধ ইজারা আর অবৈধ ড্রেজিং এক জিনিস নয়। দুটিকে গুলিয়ে ফেললে দুই ধরনের ক্ষতি হয় — এক, যাঁরা রাত-দিন মাঠে থেকে অবৈধ উত্তোলন ঠেকাচ্ছেন তাঁদের মনোবল ভাঙে; দুই, প্রকৃত অপরাধীরা এই ধোঁয়াশার সুযোগ নেয়।
আমি সমালোচনাকে স্বাগত জানাই — সমালোচনাই প্রশাসনকে সজাগ রাখে। কিন্তু অনুরোধ থাকবে, অভিযোগ যেন সুনির্দিষ্ট হয়: কোন স্থান, কোন সময়, কার ড্রেজার। এমন তথ্য পেলে আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করব। আর কোনো সংবাদে তথ্যগত অসঙ্গতি মনে হলে জেলা প্রশাসনের দরজা খোলা — যাচাই করে নিলে সবার জন্যই ভালো হয়।
ভোলাবাসীর কাছে আমার অনুরোধ — অবৈধ ড্রেজারের তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষ, কোস্টগার্ড বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানান। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া রাতের নদীতে প্রশাসনের একার পক্ষে সবকিছু ঠেকানো কঠিন।
প্রশ্ন-৫ : আপনার অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষনে ভোলার প্রধান সমস্যা ও সম্ভবনা সম্পর্কে আপনার মতামত ?
ডা.শামীম রহমান : সমস্যা : নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় — প্রতি বছর বসতভিটা, ফসলি জমি ও অবকাঠামো হারানো।
জলবায়ু ঝুঁকি — ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা; বেড়িবাঁধের একটি বড় অংশ সংস্কারের অপেক্ষায় এবং আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ বাড়ানো প্রয়োজন।
যোগাযোগ — ফেরি ও নৌপথনির্ভরতা; ভোলা-বরিশাল সংযোগ সেতু স্থাপিত হলে এ জেলার অর্থনীতির চিত্রই বদলে যাবে।
সম্পদের সদ্ব্যবহারের ঘাটতি — গ্যাস উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় শিল্পায়ন সীমিত; সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে বর্তমান উৎপাদনক্ষমতার তুলনায় স্থানীয় চাহিদা অনেক কম, ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস উদ্বৃত্ত থাকছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জনবল ঘাটতি — বিশেষত দুর্গম চরাঞ্চলে চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষক পদায়ন ও ধরে রাখা একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ। ভোলায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে এ সমস্যার একটি কাঠামোগত সমাধান মিলবে।
মৌসুমি জীবিকা-সংকট — নিষেধাজ্ঞাকালে জেলে পরিবারের আয়ের বিকল্প সীমিত।
সম্ভাবনা
গ্যাসভিত্তিক শিল্পায়ন — শিল্পপার্ক/অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে ভোলা দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এটিই ভোলার সবচেয়ে বড় গেম-চেঞ্জার।
ব্লু ইকোনমি ও ইলিশ — ইলিশের অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা, হিমাগার, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিমুখী মূল্য সংযোজন।
কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াকরণ — সয়াবিন, নারিকেল, সুপারি, তরমুজ; বিশেষত সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনের বাস্তব সুযোগ রয়েছে।
চর অর্থনীতি ও মহিষ-দুগ্ধ খাত — ভোলার মহিষের দুধের দই ও দুগ্ধপণ্যকে ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব; ভোলার মহিষের দুধের কাচা দই ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।এ পণ্যটির বাজার প্রসারিত করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
পর্যটন — মনপুরা, চর কুকরি-মুকরি, তারুয়া সমুদ্রসৈকত ও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল দেশের অন্যতম অনাবিষ্কৃত পর্যটন সম্পদ; পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম মডেলে এর বিকাশ সম্ভব।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি — উপকূলীয় বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের ভালো সম্ভাবনা।

প্রশ্ন-৬ : জেলা প্রশাসক হিসেবে ভোলাবাসীর কাছে স্মরনীয় হয়ে থাকতে ভোলা নিয়ে আপনার কি স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান ?
ডা.শামীম রহমান : আমি স্মরণীয় হওয়ার জন্য কাজ করি না; কাজ করি যেন ভোলার মানুষ বলতে পারেন — “প্রশাসন আমাদের পাশে ছিল।” স্বপ্নের কথা বলার আগে বলি, কিছু কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
ইতোমধ্যে গৃহীত উদ্যোগ : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনপ্রাপ্ত দুটি প্রস্তাব — এ দুটি এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন:
ভাসমান স্কুল — দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। যেখানে শিশুরা স্কুলে পৌঁছাতে পারে না, সেখানে স্কুলই শিশুদের কাছে পৌঁছাবে। ভোলার ভূগোল বিবেচনায় এটি কেবল সুবিধা নয়, প্রয়োজন।
চরফ্যাশন-মনপুরাকে পর্যটন অঞ্চলে রূপান্তর — এ লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে রিসোর্ট গড়ে তোলার প্রস্তাব। বেসরকারি বিনিয়োগ আসার আগে সরকারকেই পথ দেখাতে হবে; পর্যটন করপোরেশন রিসোর্ট স্থাপনে প্রস্তাব চেয়ে পত্র দিয়েছে ইতোমধ্যে। একবার অবকাঠামো দাঁড়িয়ে গেলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের একটি নতুন খাত তৈরি হবে।
প্রক্রিয়াধীন অন্যান্য প্রস্তাব:
গ্যাস সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা — ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস যেন ভোলার তরুণদের কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত হয়, সেটিই লক্ষ্য।
চরের ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমি প্রকৃত কৃষকদের অনুকূলে একসনা বন্দোবস্ত — যেসব চরে এখনো দিয়ারা জরিপ হয়নি, সেখানকার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ও বিরোধ চলছে। প্রকৃত চাষির হাতে বৈধ কাগজ পৌঁছে দিলে একদিকে বিরোধ কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব ও কৃষি উৎপাদন দুটোই বাড়বে।
ভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন — এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। একজন চিকিৎসক হিসেবে এটি আমার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মেডিকেল কলেজ মানে কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় — এর সঙ্গে যুক্ত হাসপাতাল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও রেফারেল ব্যবস্থা মিলে ভোলার সমগ্র স্বাস্থ্যসেবার চিত্র বদলে দেবে। আজ যে রোগীকে জরুরি অবস্থায় নদী পার হয়ে বরিশাল বা ঢাকায় পাঠাতে হয়, ভবিষ্যতে তাকে আর সেই ঝুঁকি নিতে হবে না।
ঐতিহ্য সংরক্ষণে:
নিগামনের মসজিদকে পুরাকীর্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে — আমার যোগদানের পর এটি সম্পন্ন হয়েছে। গেজেটভুক্তি মানে স্থাপনাটি এখন আইনি সুরক্ষা পাবে।
ভোলা সরকারি স্কুলের শতবর্ষপ্রাচীন ভবনটি সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভবনটি ভোলার শিক্ষা-ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী; এটি হারিয়ে গেলে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।
যে স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে সময় দিতে চাই
ভাঙন প্রতিরোধে একটি সমন্বিত জেলা-পরিকল্পনা — বিচ্ছিন্ন জরুরি কাজের বদলে অগ্রাধিকারভিত্তিক, তথ্যনির্ভর, দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রস্তাব প্রণয়ন ও তার জন্য অবিরাম মনিটরিং।
“একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবে না” — ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং খাসজমি বন্দোবস্তে প্রকৃত ভূমিহীনের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।
দুর্যোগে শূন্য প্রাণহানি — একজন চিকিৎসক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে এটি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার। আশ্রয়কেন্দ্রের প্রস্তুতি, সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয়তা, আগাম সতর্কবার্তা প্রচার ও চরাঞ্চলে জরুরি চিকিৎসা-প্রস্তুতিকে একটি নিয়মিত মহড়াভিত্তিক ব্যবস্থায় নিয়ে আসা।
অবৈধ বালু উত্তোলন শূন্যে নামিয়ে আনা — কেবল নিয়মিত অভিযান নয়, নজরদারির একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
হয়রানিমুক্ত সেবা — ভূমি ও নাগরিক সেবায় দালালমুক্ত পরিবেশ, নিয়মিত গণশুনানি এবং চরাঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ সেবা ও স্বাস্থ্যক্যাম্প কার্যক্রম।
ভোলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ — প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ভোলার পুরাকীর্তি, লোকঐতিহ্য সুসংহতভাবে নথিভুক্ত ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা দরকার। মসজিদটির গেজেটভুক্তি ও স্কুলভবন সংরক্ষণের প্রস্তাব সেই কাজেরই সূচনা। শেষ পর্যন্ত একটি জেলা ঐতিহ্য-সংগ্রহশালা গড়ে তোলা আমার ব্যক্তিগত স্বপ্ন — কারণ যে জনপদ প্রতিবছর নদীতে ভূমি হারায়, তার অন্তত স্মৃতিটুকু যেন না হারায়।
এছাড়াও ভোলার জীববৈচিত্র ও বনভূমি সংরক্ষণ নিয়েও কাজ করতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগামী ৫ বছরে পচিশ কোটি বৃক্ষ রোপনের কর্মসূচী বাস্তবায়নে ভোলায় আমরা উৎসাহের সাথে কাজ করে চলেছি।
পরিশেষে দৈনিক অমৃতালোক ও ভোলাবাসীকে ধন্যবাদ।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ