নিজস্ব প্রতিবেদক, অমৃতালোক:
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা। রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে মিরপুর-১, ১০, ১১, ১২ ও পল্লবী এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
ফলে মিরপুর-১, ২, ১০, ১১, ১৩, ১৪ ও কালসি এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের ফলে পুরো স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই অংশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিরপুর ১১, ১২ ও প্রশিকা মোড় এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন।
এ ছাড়া মিরপুর-১ ও ২ নম্বরেও এসে তারা সড়কে অবস্থান নেন। এতে এসব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে আসাদ নামে এক চাকরিজীবী বলেন, ‘সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য বাসে উঠেছি। কিন্তু শ্রমিকদের অবরোধের কারণে বাস না চলায় বাধ্য হয়ে নেমে হেঁটে যাচ্ছি।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে পারব কি না, জানি না।’
কাইয়ুম নামে একজন বলেন, ‘বাসে অনেকক্ষণ বসে থাকার পর আর উপায় না দেখে নেমে পড়েছি। এখন হেঁটে যেতে হচ্ছে। গরমের মধ্যে এভাবে হেঁটে যাওয়া খুবই কষ্টকর।’
এর আগে গতকাল শনিবারও একই দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাক শ্রমিককেরা।
সড়ক অবরোধের কারণে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত মিরপুর ১০, ১১, ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা মিরপুর ১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় জড়ো হন। সেখানে কয়েকটি মার্কেট ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
শ্রমিকরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি। এমন পরিস্থতিতে সংসারের খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের দাবি— জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে।
মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, ‘আজকেও তারা সড়ক অবরোধ করেছে।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।








