ইয়ামিন হোসেন, অমৃতালোক :
মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চর মদনপুর, চর কালুপুর, চর গাজীপুর, চর বৈরাগী, চরকালী, চর কাঁচিয়া, চর নিয়ামতপুর ও মধুপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে গত ৫ই আগস্টের পর থেকে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে গরু ও মহিষ চুরির ঘটনা। এ পর্যন্ত বিভিন্ন বাথান থেকে প্রায় চার শতাধিক গরু-মহিষ চুরি হওয়ার প্রতিবাদে এবং চরাঞ্চলের খামারীদের নিরাপত্তার দাবিতে ভোলায় এক প্রতিবাদী মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রোববার (২৭শে সেপ্টেম্বর) ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এসব চরাঞ্চলে গরু-মহিষ পালন করে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে আসছে, যা ভোলার স্থানীয় অর্থনীতি ও দেশের দুগ্ধ শিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের অব্যাহত তাণ্ডবে শত শত খামারী নিঃস্ব হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার বা সহযোগিতা না পাওয়ায় চোর চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই নিষ্ক্রিয়তা বজায় থাকলে ভোলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মহিষ পালন শিল্প চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাহাব উদ্দিন ফরাজী, মহিষ মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম মাষ্টার, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ অলিউর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান, ইকবাল হোসেন হাওলাদার এবং আলাউদ্দিন সাজীপ্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে ভোলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে খামারীরা অবিলম্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া ৪ শতাধিক গরু-মহিষ উদ্ধার, চিহ্নিত সংঘবদ্ধ চোর চক্র ও তাদের মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, বাথানগুলোতে নিয়মিত নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার, সর্বস্বান্ত খামারীদের সরকারি আর্থিক সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে গবাদিপশুর সুরক্ষায় ‘কিল্লা’ নির্মাণসহ রাখালদের নিরাপদ আবাসনের জোর দাবি জানান।








