সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৯:২২ পূর্বাহ্ণ

অগ্রণী ব্যাংকে ১.৩৭ কোটি টাকার নয়ছয়: উধাও কর্মকর্তা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোক :

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখা থেকে গ্রাহকদের প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক শরিফুজ্জামান সোহাগের বিরুদ্ধে এই কারসাজির অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর থেকে গত তিন দিন ধরে অভিযুক্ত কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

গ্রাহকদের হাতে ব্যাংকের টাকা জমা দেওয়ার সঠিক রসিদ থাকলেও, ব্যাংকের মূল হিসাবে সেই টাকার কোনো হদিস মিলছিল না। সম্প্রতি এক গ্রাহক ব্যাংক হিসাব চেক করতে এসে এই গরমিল দেখতে পান। এরপর আরও বেশ কজন গ্রাহক ব্যাংকে এসে জানতে পারেন, তাদের অ্যাকাউন্টেও জমানো টাকা জমা হয়নি।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ওই শাখায় কর্মরত ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে গ্রাহকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করে তিনি ১১ শতাংশ উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে এফডিআর (স্থায়ী আমনত)-এর নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে এই টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকা নেওয়ার পর ব্যাংকের রসিদ দিলেও তা মূল সিস্টেমে এন্ট্রি করেননি তিনি।

ঘটনা জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে ব্যাংক চত্বরে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড় বাড়তে থাকে। বারিগাঁও এলাকার জাকিয়া সুলতানা ও বেজগাঁও এলাকার জুথি আক্তার জানান, তারা প্রত্যেকে ৭ লাখ টাকা করে ব্যাংকে জমা দিলেও হিসাব যাচাই করে দেখতে পান সেখানে কোনো টাকা নেই। এছাড়া আড়িয়লপাড়ার নাছির হাওলাদার ১৫ লাখ এবং অন্য এক গ্রাহকের পরিবার থেকে লক্ষাধিক টাকা জমা না হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মাত্র কয়েকজন গ্রাহকেরই ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য মিলেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ধারণা, ভুক্তভোগীর সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং কেলেঙ্কারির মোট পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাছিবুর রহমান এবং পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যাংক পরিদর্শনে যান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাংকের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইউএনও হাছিবুর রহমান জানান, গ্রাহকদের হাতে থাকা রসিদ এবং ব্যাংকের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এদিকে পলাতক কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান এবং শ্রীনগর শাখার ব্যবস্থাপক মো. শরিফুদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জ শাখার জোনাল হেড মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রধান কার্যালয় থেকে অডিট টিম এসে পুরো বিষয়টি তদন্ত করবে এবং এর সাথে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ