সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১২:২৪ অপরাহ্ণ

সকালে খালি পেটে অফিস? হতে পারে মনোযোগের ঘাটতি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

জ.ই বিদ্যুৎ,সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,অমৃতালোক:

সকালের পুষ্টিকর নাশতা সারাদিনের শক্তির উৎস। কিন্তু বর্তমানের ব্যস্ত লাইফস্টাইলে অনেকেই সকালে দীর্ঘসময় না খেয়ে কাজে নেমে পড়েন। এই অভ্যাসটি কেবল তাৎক্ষণিক দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার কারণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে মনোযোগের ঘাটতি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি করে। একই সাথে, খালি পেটে চা বা কফি খাওয়ার আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ অভ্যাসটিও শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি করে চলেছে।

শরীরের যেসব সমস্যা হতে পারে

খালি পেটে দীর্ঘসময় থাকলে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে দুর্বলতা, ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে কাজের মনোযোগ ও কর্মক্ষমতার ওপরও।

এ ছাড়া দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকলে অনেকের পেটে অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে। এমনকি পেটের আলসার হতে পারে। তবে খালি পেটে থাকলেই যে আলসার হবে তা বলা ঠিক না। আলসারের পেছনে অন্য অনেক কারণ থাকতে পারে।

অন্যদিকে সকালে না খেয়ে বের হলে খাবারের ঘাটতি ও ক্ষুধার কারণে মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। এতে কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যাসহ ভুল হওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে।

তাছাড়া সকালের নাশতা এড়িয়ে গেলে শরীরে প্রোটিনের মাত্রা মারাত্মক মাত্রায় কমে যায়, যা কেরাটিনের মাত্রায় প্রভাব ফেলে। কেরাটিন কমে গেলে চুলের বৃদ্ধি কমে যায়। ফলে চুল পড়তে শুরু করে। আর দিনের পর দিন সকালের নাশতা না করলে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষ সকালে নাস্তা এড়িয়ে যান তাদের মধ্যে ২৭ শতাংশের বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। স্বাস্থ্যকর নাস্তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

কী করা উচিত

বাসা থেকে বের হওয়ার আগে অল্প হলেও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। নাশতার জন্য ফল, দই, ডিম, বাদাম বা অন্য কোনো সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। দীর্ঘসময় বাইরে থাকতে হলে সঙ্গে হালকা স্বাস্থ্যকর নাশতা রাখা যেতে পারে।

পাশাপাশি শরীরের পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। বিশেষ করে গরমের সময় শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করতে হবে। নিয়মিত খাবার খাওয়ার পরও যদি বারবার মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, পেটে ব্যথা বা তীব্র অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ