এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ১:২৩ পূর্বাহ্ণ

সংসদে মন্ত্রীদের কথা শুনলে মনে হয় দেশে কোনো সমস্যা নেই

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোক :

সরকারি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা সংসদে কথা বললে মনে হয় দেশে কোনো সমস্যা নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে গেলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়; সেখানে সমস্যার পাহাড় জমে আছে।

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত শিশুদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশে সবচেয়ে প্রাধান্য পাওয়ার কথা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের।

কিন্তু আমাদের দেশে এই দুই খাতই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। আমরা সংসদে প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছিলাম, দেশে পর্যাপ্ত আইসিইউ আছে কি না। বলা হয়েছে আছে। অথচ আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে সাক্ষ্য দিচ্ছি, বাংলাদেশের বেশির ভাগ হাসপাতালে আইসিইউর অস্তিত্বই নেই।

আইসিইউ মেইনটেন করতে হলে আগে আইসিইউ রিসোর্স পারসনকে প্রশিক্ষিত করতে হবে, যাঁদের ক্রিটিক্যাল কেয়ার স্পেশালিস্ট বলা হয়। সেই ব্যবস্থাটাই বাংলাদেশে গড়ে তোলা হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও মানুষের জন্য কাজ করার আহবান জানান। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই হাসপাতালটিতে সারা দেশ থেকে শিশুরা চিকিৎসা নিতে আসে।

কিন্তু এখানে পর্যাপ্ত সেবা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা নেই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগে এই হাসপাতালের জন্য সরকার ৩০ কোটি টাকা বাজেট দিত, গত বছর থেকে তা কমিয়ে ২৮ কোটি টাকা করা হয়েছে। সময় ও চাহিদা অনুযায়ী বাজেট বাড়ার কথা থাকলেও তা কমানো দুঃখজনক। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই, আপনারা শিশু হাসপাতালটির দিকে বিশেষ নজর দিন। কারণ শিশুরাই আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।


তেল নিতে কষ্টের পাশাপাশি জনগণকে অপমানও সহ্য করতে হচ্ছে : এদিকে জ্বালানি তেলের সংকটকে সাধারণ মানুষের জীবনে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, একদিকে জ্বালানি তেলের অভাব, অন্যদিকে সেই সংকটের দায় চাপানো হচ্ছে ভোক্তা ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর—তাঁদের কখনো বলা হচ্ছে ‘তেল পাচারকারী’, কখনো ‘চোর’। এতে করে কষ্টের পাশাপাশি অপমানও সহ্য করতে হচ্ছে তাঁদের।

গতকাল শনিবার ঢাকার আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে জেলা ও মহানগর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেলচালক ও রাইডারদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি সংকটাপন্ন। আগে যেখানে তাঁরা দিনে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা আয় করতেন, এখন তা নেমে এসেছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আয় কমার প্রধান কারণ দুটি—তেলের সংকট ও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা। এতে কর্মঘণ্টা কমে যাচ্ছে, অথচ জীবিকার চাহিদা কমছে না। পরিবার চালানো তাঁদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

একজন রাইডারের উদ্ধৃতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘এটা ছিল আমাদের আত্মনির্ভরশীল পেশা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই পেশা ছেড়ে কোথায় যাব? চারদিকে তো বেকারত্বই বাড়ছে।’

তিনি আরো বলেন, তেলের সংকটের প্রভাব শুধু পরিবহন খাতে নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়েছে। অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সময় ও সুযোগের অভাবে অনেকেই বাজার পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করতে পারছেন না।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ