নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২:৪১ পূর্বাহ্ণ

শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকলে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেবেন মালিকরা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক, অমৃতালোক:

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে সরকার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে গেলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকরা।

রোববার বিকেলে ঢাকার উত্তরায় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির সাধারণ সদস্যদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

মাহমুদ হাসান খান গণমাধ্যমকে জানান, সভায় কয়েকজন উদ্যোক্তা আগামীকাল থেকেই কারখানা বন্ধের পক্ষে মত দিলেও অধিকাংশ মালিক উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং কারখানায় বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হতে পারে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠনের পর আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কারখানায় কাজে ফিরে যাবেন। এখন যদি আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়, তাহলে আমাদের ধরে নিতে হবে, তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে।’

এদিকে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে রোববারও রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছে। মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া এবং গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ বক্স ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতির কারণে মিরপুরে মেট্রোরেলের তিনটি স্টেশনে সাময়িকভাবে চলাচল বন্ধ রাখতে হয়।

বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে রোববার পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এসব কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বেরিয়ে যান। এর মধ্যে মিরপুরের ৬৮টি কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ২৭৬টি এবং সাভারের আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ১৮৫টি কারখানার শ্রমিকেরা কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ