সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

শুধু উড়োজাহাজে নয়, এয়ারপ্লেন মোডের আরও যেসব ব্যবহার

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

জ.ই বিদ্যুৎ,সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,অমৃতালোক:

স্মার্টফোনের ‘এয়ারপ্লেন মোড’ নামটি শুনে অনেকেই মনে করেন, উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময়ই কেবল এই ফিচারটির প্রয়োজন হয়। তবে বিমানের বাইরেও এর রয়েছে বেশ কিছু ব্যবহারিক সুবিধা।

এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে ফোনের বিভিন্ন বেতার যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় ব্যাটারি সাশ্রয়, চার্জ দেওয়ার সময় কিছুটা বাড়তি শক্তি সঞ্চয়, নেটওয়ার্ক সংযোগ পুনরায় চালু করা এবং কিছু সময়ের জন্য অনলাইন দুনিয়া থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখার মতো কাজে এটি ব্যবহার করা যায়।

এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে কী হয়?
এয়ারপ্লেন মোড মূলত ফোনের বিভিন্ন বেতার যোগাযোগব্যবস্থাকে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে। সাধারণত এটি চালু করলে মোবাইল নেটওয়ার্ক, মোবাইল ডেটা, ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফোনে কল করা বা গ্রহণ করা, এসএমএস আদান-প্রদান এবং মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা যায় না।

তবে আধুনিক স্মার্টফোনে এয়ারপ্লেন মোড চালু রেখেই প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ আবার চালু করা যায়। জিপিএসের ক্ষেত্রে আচরণ ডিভাইসভেদে ভিন্ন হতে পারে। জিপিএস মূলত সিগন্যাল গ্রহণ করে, পাঠায় না। তাই কিছু ফোনে এয়ারপ্লেন মোড চালু থাকলেও জিপিএস কাজ করতে পারে, আবার কিছু ডিভাইসে এর কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে।

বিমানে কেন এ মোড প্রয়োজন?
এয়ারপ্লেন মোডের প্রধান ব্যবহার উড়োজাহাজে ফোনের বেতার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা। ফোনের মোবাইল নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকলে সেটি সিগন্যালের জন্য মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে উড়োজাহাজে যাত্রীদের এয়ারলাইন ও ক্রুদের নির্দেশনা অনুযায়ী এয়ারপ্লেন মোড চালু রাখতে বলা হয়।

তবে আধুনিক অনেক উড়োজাহাজে ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সুবিধা রয়েছে। ফলে এয়ারপ্লেন মোড চালু রেখেও অনুমোদিত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়া যায়।

দুর্বল নেটওয়ার্কে ব্যাটারি সাশ্রয়
গ্রামাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা, ভবনের বেজমেন্ট কিংবা নেটওয়ার্ক দুর্বল এমন স্থানে ফোনকে নিয়মিত সিগন্যাল খুঁজতে হয়। সংযোগ ধরে রাখার এই প্রক্রিয়ায় বাড়তি ব্যাটারি খরচ হতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রয়োজন না থাকলে এয়ারপ্লেন মোড চালু করে রাখা যেতে পারে। এতে ফোনের নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান বন্ধ থাকে এবং ব্যাটারির চার্জ তুলনামূলক বেশি সময় ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

চার্জ দেওয়ার সময়ও উপকারী
ফোন চার্জ দেওয়ার সময় এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে নেটওয়ার্ক-নির্ভর কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম, সিঙ্ক ও নোটিফিকেশনের কারণে হওয়া বাড়তি ব্যাটারি ব্যবহার কমতে পারে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ফোন তুলনামূলক দ্রুত চার্জ হতে পারে।

তবে এয়ারপ্লেন মোড ব্যবহারে চার্জিংয়ের গতি খুব বেশি বাড়ে না। এর প্রভাব ডিভাইস ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ কাজে ‘ডিজিটাল বিরতি’
পড়াশোনা, অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ, মিটিং কিংবা বিশ্রামের সময় ফোনে বারবার কল, বার্তা ও নোটিফিকেশন আসা বিরক্তির কারণ হতে পারে। এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে এসব অনলাইনভিত্তিক সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।

ফলে ফোন পুরোপুরি বন্ধ না করেও কিছু সময়ের জন্য ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ থেকে দূরে থাকা যায়। প্রয়োজন হলে পরে ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ আলাদাভাবে চালু করা সম্ভব।

নেটওয়ার্ক সমস্যায় দ্রুত সমাধান
কখনো ফোনে মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ না করলে সাময়িকভাবে এয়ারপ্লেন মোড চালু করে আবার বন্ধ করা যেতে পারে। এতে ফোনের বেতার সংযোগগুলো পুনরায় নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানের সুযোগ পায়।

ফলে দুর্বল বা সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক সংযোগ ফিরে আসতে পারে। তবে স্থায়ী নেটওয়ার্ক সমস্যা বা অপারেটরের ত্রুটি এভাবে সমাধান হবে না।

রোমিং খরচ এড়াতে
বিদেশ ভ্রমণের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত মোবাইল ডেটা ব্যবহার ও রোমিং চার্জ এড়াতেও এয়ারপ্লেন মোড কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য দেশের নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখতে এই মোড ব্যবহার করা যায়।

প্রয়োজন অনুযায়ী পরে ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ আলাদাভাবে চালু করে ইন্টারনেট ও অন্যান্য সংযোগ ব্যবহার করা সম্ভব।

অর্থাৎ, নামের সঙ্গে বিমানের সম্পর্ক থাকলেও এয়ারপ্লেন মোড কেবল উড়োজাহাজে ব্যবহারের জন্য নয়। নেটওয়ার্ক ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সাময়িকভাবে ডিজিটাল সংযোগ বন্ধ রাখার মতো দৈনন্দিন নানা কাজেও ফিচারটি কার্যকর হতে পারে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ