সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১:২২ অপরাহ্ণ

ভোলায় নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ, ১৩ ভবন মালিককে পৌরসভার নোটিস

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ইউনুছ শরীফ, অমৃতালোক:

নকশা বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ করায় ভোলা পৌরসভার ১৩ ভবন মালিককে নোটিস দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে নকশাবহির্ভূত ভবনের অংশ ভাঙা এবং সবার জন্য পার্কিং অবমুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয় এই নোটিসে। পৌর কর্তৃপক্ষের এমন নোটিসে পাত্তাই দিচ্ছেন না ভবন মালিকেরা। ভবন নির্মাণে মানা হচ্ছে না বিল্ডিং কোড। তবে ইতোমধ্যে ভবন মালিকেরা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েক দফা সময় চেয়েছেন। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের সময় কেন পৌর কর্তৃপক্ষ বাধা প্রদান করল না, তা নিয়েও পৌর প্রশাসনকে দূষছেন ভবন মালিকেরা।

জানা যায়, ভোলা পৌরসভার সদর রোডে অবস্থিত ১৩টি বহুতল ভবন পৌরসভার নকশা অমান্য করে নির্মাণ করা হয়েছে। যেসব ভবনের মধ্যে বড় বড় ব্যবসায়িক শোরুম রয়েছে। নকশা অনুমোদনের সময় ১৫ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে যেভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা মোটেও মানা হয়নি এসব ভবনে। পাশাপাশি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রেখে প্ল্যান পাস করালেও বাস্তবে পার্কিংয়ের জায়গাও ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে কেনাকাটা করতে আশা ভোক্তাদের ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। যানজট লেগেই আছে এই ভবনগুলোর সামনে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ৭৮১ নম্বর স্মারকে পৌরসভার পক্ষ থেকে এই ১৩ ভবন মালিককে নোটিস প্রদান করা হয়। ভবনগুলো হচ্ছে নজরুল ইসলাম গোলদারসহ ছয়জনের মালিকানাধীন গোলদার প্লাজা, আব্দুর রাজ্জাকসহ তিনজনের মালিকানাধীন ইউসিবি ব্যাংক ভবন, হারুনুর রশিদসহ দুজনের মালিকানাধীন মক্কা ভবন, মোসলেউদ্দিনসহ দুজনের মালিকানাধীন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ভবন, মোসাম্মৎ হামিদা বেগমের মালিকানাধীন কেপ-টাউন মার্কেট, সালাউদ্দিনের মালিকানাধীন কর্ণফুলী শপিং কমপ্লেক্স, বিক্রম রায়, কবিতা রানিসহ সাতজনের মালিকানাধীন ইজি শো রুম, ওমর ফারুক ও জহিরুল ইসলাম নান্নুর মালিকানাধীন মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামল কৃষ্ণ দত্তের মালিকানাধীন রয়েল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মনির হোসেন পারভেজ ও বজলুর রহমানের মালিকানাধীন ভিক্টর/অমনি শো-রুম, মসিহউদ্দিন আল মাঈদের মালিকানাধীন মহাজনপট্টিতে হোটেল গ্র্যান্ড হলিডে, আইয়ুব আলী ও আনোয়ারা বেগমের মালিকানাধীন মহাজনপট্টি বহুতল ভবন, এ টি এম মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন হাবিব মেডিকেল সেন্টার। সব ভবনের মধ্যে বিক্রম রায় ও কবিতা রানিসহ সাতজনের মালিকানাধীন এই শোরুমের বিরুদ্ধে বাংলা স্কুলের পুকুরের সরকারি সম্পত্তি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন পৌর প্রশাসক মিজানুর রহমান এসব ভবনের নকশাবহির্ভূত অংশ ভাঙার জন্য নোটিসের পাশাপাশি পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার এই উদ্যোগ সফল হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে নোটিস পাওয়া ১৩ ভবন মালিক ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বাদী হয়ে হাইকোর্টে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাযি ও বিচারপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদের বেঞ্চে রিট করে সময় চেয়েছেন। হাইকোর্ট ছয় মাসের জন্য যে যে অবস্থায় আছেন, সে অবস্থায় থাকার জন্য সময় দিয়েছেন। সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। সময় শেষ হওয়ার কাছাকাছি আসায় আবার পৌর কর্তৃপক্ষ এবং ভবন মালিকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে হাবিব মেডিকেল সেন্টারের মালিক ডাক্তার মিজানুর রহমান অমৃতালোককে কে বলেন, সদর রোডে যেসব ভবন আছে, সেসব ভবনের ব্যবসা নিচতলায় বেশি হয়। কেউ এখানে পার্কিং রাখতে চায় না‌ । ট্রাফিক ব্যবস্থা সক্রিয় হলে যানজট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আমরা হাইকোর্টে রিট করে সময় চেয়েছি। ভোলা পৌরসভার প্রশাসক বেলাল হোসেন জানান, আইনি কোনো জটিলতা না থাকলে আমরা অবশ্যই নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলব এবং পার্কিং উন্মুক্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ