সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১:২২ অপরাহ্ণ

ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ ও প্রস্তাবিত সড়ক যোগাযোগ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি ‘আমরা ভোলাবাসীর’

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

খাইরুল ইসলাম, অমৃতালোক
ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রায় ২২ লাখ মানুষের দ্বীপজেলা ভোলাকে দেশের মূল ভুখন্ডের সাথে সরাসরি যুক্ত ও সম্প্রতি প্রস্তাবিত সড়ক যোগাযোগ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবিতে ভোলাতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোলা প্রেসক্লাবে হলরুমে ‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আমরা ভোলাবাসীর সদস্য সচিব মীর মোশারেফ অমি।

লিখিত বক্তব্যে অমি বলেন,সম্প্রতি ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশিত হয়েছে। ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার আলোকে আমরা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

বর্তমানে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলার সঙ্গে যে সড়ক যোগাযোগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে,তা ভোলাবাসীর সময়,দূরত্ব ও ভোগান্তি কমানোর পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আমরা মনে করি। একই সঙ্গে নতুন ২১ কিলোমিটার হাইওয়ে নির্মাণ, ৩৬ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ এবং মেঘনার মোহনায় তিনটি বড় সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্পটির মোট ব্যয়,সময় ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতুর তুলনায় কতটা যৌক্তিক তা অবশ্যই কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

মীর মোশারেফ অমি আরও বলেন,আমরা হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের উন্নয়নের বিরোধিতা করি না। তবে ২২ লাখ মানুষের ভোগান্তি, সময় ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় ভোলার সঙ্গে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে দ্রুত,সরাসরি, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও ভবিষ্যৎমুখী যোগাযোগ কোন পথে নিশ্চিত হবে-তা তথ্য ও প্রকৌশলগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা জরুরি।

ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণ করা হলে ভোলা সরাসরি বিভাগীয় শহর বরিশালের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে কম সময়ে বরিশাল এবং দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ভোলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি ও মৎস্য খাতের বিকাশেও এই সরাসরি যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই আমাদের দাবি- ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু, লাহারহাট-ভেদুরিয়া রুট এবং রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটের দূরত্ব,সময়, নির্মাণ ব্যয়, সেতুর সংখ্যা,পরিবহন ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল তুলনা করে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা জনগণের সামনে প্রকাশ করা হোক।

একই সঙ্গে ভোলার জাতীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আমাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,দলমত ও ব্যক্তিগত অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের যোগাযোগের দাবি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরুন এবং ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিন।

আমরা ভোলাবাসী সংগঠনের সদস্য সচিব বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন জানাই-ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও ২২ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ যোগাযোগের কথা বিবেচনা করে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলার প্রস্তাবিত রুটের পরিবর্তে ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করুন। আমাদের দাবি কোনো ব্যক্তি, দল বা এলাকার বিরুদ্ধে নয়। আমাদের দাবি ভোলার মানুষের স্বার্থে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বার্থে এবং একটি সরাসরি, কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার পক্ষে।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আমরা ভোলাবাসী সংগঠনের সদস্য মেহেদী হাসান,শরীফ হাওলাদার,ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন শাকিল,জাতীয় নাগরিক পার্টির ভোলা সদর উপজেলার সদস্য সচিব নাসরিন জাহান,ভোলা শহর ইসলামী ছাত্রশিবিরের মিডিয়া সম্পাদক আরিফ আহমেদ,ছাত্র সমাজের নোমান হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ