সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২:৪৭ অপরাহ্ণ

বিশ্বজুড়ে ডিজেলসংকট, স্বস্তি মিলবে না ২০২৭ সালেও

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক,অমৃতালোক:

ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া ডিজেলসংকট ২০২৭ সালেও অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জ্বালানির উচ্চমূল্য আরও দীর্ঘ সময় বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বাজার বিশ্লেষকেরা।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিজেলের মজুদও ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে ডিজেলের দামেও। ঘাটতির কারণে জ্বালানিটির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারে সীমাবদ্ধ নেই; কৃষি, উৎপাদনশিল্প ও ভারী পরিবহনসহ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাত ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সংকটের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে অন্য খাতেও।

যুক্তরাষ্ট্রেও ডিজেলসংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলতি মাসে দেশটিতে খুচরা ডিজেলের দাম প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ছাড়িয়েছে।

দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষক ও ট্রাকচালকদের ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে মার্কিন অর্থনীতি ঘিরেও উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্যও রাজনৈতিকভাবে উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিজেল মজুদের জায়গাও কমছে

ডিজেলসংকট যে দ্রুত কাটছে না, তার আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে জ্বালানি সংরক্ষণ বা স্টোরেজ বাজারে।

স্টোরেজ ব্রোকার প্রতিষ্ঠান দ্য ট্যাংক টাইগারের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শোধনাগার ও জ্বালানি ব্যবসায়ীরা ডিজেল সংরক্ষণের জন্য নেওয়া গুদাম বা স্টোরেজের লিজ নবায়ন করছেন না। এর একটি কারণ হলো, সংরক্ষণ করার মতো পর্যাপ্ত ডিজেলই পাওয়া যাচ্ছে না।

অর্থাৎ বাজারে সরবরাহ এতটাই সংকুচিত হয়েছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন করে ডিজেল মজুদ করার পরিবর্তে বিদ্যমান সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় মনোযোগ দিচ্ছে।

২০২৭ সালেও থাকতে পারে চাপ

বাজারের মজুদ পরিস্থিতি এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালেও ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের স্বস্তি নাও ফিরতে পারে।

ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় সৃষ্ট বিভিন্ন বিঘ্নের কারণে বাজারে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ডিজেলের উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে কৃষি, পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের ব্যয় বাড়িয়ে যেতে পারে।

ডিজেলনির্ভর এসব খাতে ব্যয় বাড়লে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য পরিবহন, খাদ্য উৎপাদন ও দৈনন্দিন পণ্যের দামেও পড়তে পারে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী ডিজেলসংকট বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরও দীর্ঘ সময় ধরে একটি বড় চাপ হয়ে থাকতে পারে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ