সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১:২২ অপরাহ্ণ

নীরবতায় কাটল কাঙাল হরিনাথের ১৯৩তম জন্মজয়ন্তী

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

বিশেষ প্রতিনিধি, অমৃতালোক
গ্রামীণ সাংবাদিকতার বাতিঘর কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ১৯৩তম জন্মজয়ন্তী কুষ্টিয়াশ নীরবেই কেটে গেছে।

সরকারি কোনো নির্দেশনা না থাকায় সোমবার (২০ জুলাই) তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরে বড় কোনো আয়োজন করা হয়নি। শুধু তাঁর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়েই দিবসটি পালন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়নি কোনো কর্মসূচি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাঙাল হরিনাথের বংশধর, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, দায়িত্বশীলদের অবহেলা ও নানা অজুহাতে বারবার এই গুণী ব্যক্তির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে না। তাঁরা দাবি জানিয়েছেন, কাঙাল হরিনাথের জন্ম ও মৃত্যু দিবস জাতীয়ভাবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

গ্রামীণ সাংবাদিকতার অগ্রদূত কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ১৮৩৩ সালের ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কুণ্ডুপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কুমারখালী থেকে তিনি প্রকাশ করেন মাসিক পত্রিকা ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’। তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তৎকালীন সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরার পাশাপাশি কৃষক ও সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি। ১৮৯৬ সালের ১৮ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে কুমারখালী পৌরসভার পাশে নির্মাণ করা হয়েছে কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর। তবে অযত্ন ও অবহেলায় তাঁর বাস্তুভিটা ও সমাধি নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার বিকেলে স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে দেখা যায়, ম্যুরালে জাদুঘরের কর্মচারীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন। তবে জাদুঘরের প্রধান ফটকে ছিল তালা। পুরো প্রাঙ্গণ ছিল নিরব-নিস্তব্ধ। ছিল না কোনো সাজসজ্জা বা বিশেষ আয়োজন।

কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক তাপস কুমার মণ্ডল বলেন, “আজ কাঙাল হরিনাথের ১৯৩তম জন্মদিবস। এখানকার সব সিদ্ধান্ত জাতীয় জাদুঘর থেকে নেওয়া হয়। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এনে জাদুঘর পরিদর্শন করানো হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, দিবসটি নীরবে চলে যাচ্ছে এমন নয়। জাতীয় জাদুঘরে ব্যাপক আয়োজনে অনুষ্ঠান করা হয়েছে।

তবে এর আগে গত ১৮ এপ্রিল কাঙাল হরিনাথের ১৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতেও বড় কোনো আয়োজন হয়নি। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর সময়সূচির অজুহাতে সেদিন শুধু ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও একটি বৃক্ষরোপণের মধ্যেই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ ছিল বলে জানা গেছে।

কাঙাল হরিনাথের চতুর্থ বংশধর প্রয়াত অশোক মজুমদারের স্ত্রী গীতা রানী মজুমদার আক্ষেপ করে বলেন, “এসব বলে কোনো লাভ নেই। যে কাঙাল, সে কাঙালই রয়ে গেছে। কাঙালকে ঘিরে অনেকেই সুবিধা নিয়েছে, কিন্তু তাঁর নিজের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।”

স্থানীয় কবি ও সাহিত্যিক লিটন আব্বাস বলেন, “কাঙাল হরিনাথ শুধু সাংবাদিক নন, তিনি ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের একজন অগ্রণী মানুষ। তাঁকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন শাহসহ অন্যান্য মনীষীদের মতো তাঁর স্মরণীয় দিনগুলোও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা উচিত।”

এবিষয়ে কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, “সরকারিভাবে কোনো নির্দেশনা না থাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন করা হয়নি। তবে এই গুণী ব্যক্তির জন্ম ও মৃত্যু দিবস জাতীয়ভাবে পালন করা যৌক্তিক। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ