নিজস্ব প্রতিবেদক, অমৃতালোকঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ‘সুইট কর্ন চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষক জাকির হোসেন। তিনি উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের কেদারখোলা গ্রামের বাসিন্দা।
নতুন ফসল আবাদে আগ্রহী কৃষক জাকির হোসেন এর আগেও উপজেলায় প্রথমবারের মতো বিটরুট চাষ করে সফলতা পেয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে তিনি মাত্র তিন শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সুইট কর্ন আবাদ করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনি ‘সুইট গোল্ড’ জাতের বীজ রোপণ করেন। প্রথমবার চাষ করেও ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় তিনি আশাবাদী।
সুইট কর্ন সাধারণ ভুট্টার তুলনায় নরম, রসালো ও মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় শহরাঞ্চলে এর চাহিদা বেশি। সালাদ, স্যুপ, ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ফসল স্বল্প সময়ে (৭০-৮০ দিন) সংগ্রহ করা যায় এবং বাজার মূল্য তুলনামূলকভাবে ভালো হওয়ায় কৃষকদের নিকট এটি একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাকির হোসেন বলেন,
‘আমি আগে কখনো সুইট কর্ন চাষ করিনি। কৃষি অফিসের পরামর্শে তিন শতাংশ জমিতে সুইট কর্ন চাষ করি, ফলনও ভালো হয়েছে। এলাকার মানুষকে উপহার দেওয়ার পাশাপাশি বাজারে প্রতি পিস ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নবীনগরে এটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। সফলতা অব্যাহত থাকলে সুইট কর্নকে একটি সম্ভাবনাময় উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। এ লক্ষ্যে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফসলটিকে জনপ্রিয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘সুইট কর্ন একটি স্বল্পমেয়াদি ফসল, মাত্র ৭০-৮০ দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা যায়। পাশাপাশি, গাছ সবুজ থাকায় এটি সাইলেজ হিসেবে গোখাদ্যে ব্যবহার করা সম্ভব। জাকির হোসেনের এই উদ্যোগ নবীনগরে ফসল বৈচিত্র্যকরণ ও আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
জাকির হোসেনের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে সুইট কর্ন আগামী দিনে নবীনগরের কৃষিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।








