এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১০:০০ অপরাহ্ণ

গাজীপুরে গড়ে আট ঘণ্টা লোডশেডিং, উৎপাদন ব্যাহত কারখানায়

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোক :

গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ ছায়াবিথি এলাকার আবিদ হাসানের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার থেকে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ আগে থেকেই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিঘ্ন হচ্ছে তার লেখাপড়া। তার সঙ্গে রয়েছে তীব্র গরম। শুধু আবিদ একা নয়, লোডশেডিংয়ে গাজীপুর জেলাবাসীর জীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে।

কলকারখানায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, জেলায় দিনে গড়ে আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। যখন-তখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কলকারখানার চাকা। থমকে যাচ্ছে উৎপাদন।

নগরীর চেয়ে গ্রামের অবস্থা বেশি খারাপ। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর অধীন এলাকায় দিনরাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এই সমিতি গাজীপুর শহর ছাড়াও কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ডিজেল-পেট্রলসংকটে জেনারেটরও চালানো যাচ্ছে না।

ফলে তীব্র গরমে একদিকে যেমন জনজীবন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে উৎপাদন কমে গিয়ে রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।
গাজীপুরে দুর্বিষহ অবস্থার কথা তুলে ধরে গত রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা সালাহউদ্দিন আইয়ুবী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হায় হায় করছে। শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকার রাধুনী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং।

শহরের কোনাবাড়ী শিল্প এলাকার গৃহিণী রূপজান নাহার বলেন, ৪০ থেকে ৫০ মিনিট পর পর বিদ্যুৎ চলে যায়। ফ্যান বন্ধ হয়ে গেলে গরমে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
জানা গেছে, গাজীপুরে প্রায় পাঁচ হাজার শিল্প-কারখানা আছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কমেছে এসব কারখানার উৎপাদন। ডিজেল সংকটে জেনারেটরও বেশিক্ষণ চালানো যাচ্ছে না। কারখানার শ্রমিকরাও বেকার বসে থাকছেন। ইয়ান নিট কম্পোজিট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ হাসান বলেন, ‘দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুত্ থাকে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মেশিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, উৎপাদন কমে গেছে।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মোট বিদ্যুতের চাহিদা ৪৮৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ মিলছে ৩১২ মেগাওয়াট। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর চাহিদা ১৪০ মেগাওয়াট, বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯০ মেগাওয়াট। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতায় শ্রীপুর ও মাওনা অঞ্চলে ১৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর অধীন কালিয়াকৈর উপজেলায় চাহিদা ২০০ মেগাওয়াট, পাওয়া যাচ্ছে ১২০ মেগাওয়াট। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার আজাদ বলেন, চাহিদার তুলনায় ১৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না পাওয়ায় গড়ে ৩০ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এতে জেলায় গড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ