মে ১৮, ২০২৬ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

ইরানের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে: ট্রাম্প

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক,অমৃতালোক:

চলমান সংঘাত নিরসনে এবং যুদ্ধ বন্ধের আন্তর্জাতিক আলোচনা থমকে যাওয়ায় ইরানকে কঠোর ভাষায় চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেছেন, তাদের ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’।

রোববার (১৭ মে) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে অংশ নেওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই বার্তাটি দেন।

সেখানে ট্রাম্প লেখেন, ‘তাদের উচিত পদক্ষেপ নেওয়া, দ্রুত; নাহলে তাদের আর কোনো কিছুই থাকবে না। এখন সময়টাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ!’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চলমান সংঘাত চিরতরে অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি যে শান্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তার জবাবে মার্কিন প্রশাসন কোনো ধরনের শক্ত ছাড় দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আপস না করার অনমনীয় মনোভাবের কারণে চলমান এই ‘আলোচনায় চরম অচলাবস্থা’ দেখা দিতে পারে।

এর আগে গত এপ্রিল মাসের শুরুতে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগের মুহূর্তেও ট্রাম্প চরম হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে ‘পুরো একটি সভ্যতা’ ধ্বংস হয়ে যাবে। তার সাম্প্রতিক এই কঠোর বার্তাতেও মূলত সেই একই ধ্বংসাত্মক হুমকির সুর পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানের উত্থাপিত দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতিটি এখন কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জোর দিয়ে বলেছেন যে, তেহরানের দেওয়া দাবিগুলো ছিল অত্যন্ত ‘দায়িত্বশীল’ ও ‘উদার’। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের মূল দাবির মধ্যে ছিল সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা, যা মূলত লেবাননে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ যোদ্ধা দল হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলার দিকেই সরাসরি ইঙ্গিত করে।

এর পাশাপাশি ইরানের প্রধান প্রধান বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত কঠোর অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়া, ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো সামরিক হামলা না চালানোর আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দেওয়া এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করার দাবিও জানায় তেহরান। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিজস্ব সার্বভৌমত্বের বিষয়েও নতুন করে জোর দেওয়া হয়েছে।

ইরানের আরেকটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস রোববার এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে যে, তেহরানের শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাল্টা পাঁচটি কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো—ইরানকে ভবিষ্যতে শুধু একটিমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হবে এবং তাদের কাছে বর্তমানে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুত অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত বা পাঠিয়ে দিতে হবে।

অবশ্য এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি আগামী ২০ বছরের জন্য তাদের সমস্ত পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি স্থগিত রাখে, তবে তিনি তা মেনে নেবেন। পারমাণবিক ইস্যুটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি বড় বিরোধের জায়গা হলেও আগে যুক্তরাষ্ট্র এই কর্মসূচি পুরোপুরি চিরতরে বন্ধ করার দাবি জানাত, তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই মন্তব্যে মনে হচ্ছে মার্কিন প্রশাসন তাদের আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ বাহিনী ইরানের ওপর একযোগে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে কূটনৈতিক আলোচনার সুবিধার্থে যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি হলেও তা মূলত উভয় পক্ষই মেনে আসছিল। তবে ইরান এখনো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চলাচলের এই আন্তর্জাতিক জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে।

ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের উপযুক্ত প্রতিশোধ নিতেই তারা এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তেহরানকে তাদের শর্ত মানতে বাধ্য করার জন্য ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে যুদ্ধরত মার্কিন ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান নিবিড়ভাবে কাজ করে গেলেও এখনো উভয় পক্ষের বড় বড় নীতিগত দাবির মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ