নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোকঃ
রোজায় ইফতারির অন্যতম আনুষঙ্গিক খেজুর। ধনী-গরিব কিংবা উচ্চবিত্ত বা নিম্নবিত্ত—সবাই ইফতারে খেজুর রাখার চেষ্টা করে। আর এ সুযোগটাই নেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। রমজান এলেই নানা কারসাজি করে খেজুরের দাম বাড়িয়ে দেয় তারা। এবারও রোজার আগে বাজারে খেজুরের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে দাম হয়ে উঠেছে লাগামহীন। চাহিদার তুলনায় মজুতে কোনো ঘাটতি না থাকলেও সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের বাড়তি দামে খেজুর কিনতে হচ্ছে।
জানা গেছে, দেশে রমজানে খেজুরের মোট চাহিদা থাকে ৬০ থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন। তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরে ১০ হাজার মেট্রিক টন খেজুর আমদানি হয়েছে, ডিসেম্বরে এলসি খোলা হয়েছে ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এবং জানুয়ারিতে ৪ হাজার মেট্রিক টন। এ ছাড়া আগের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন। সব মিলিয়ে বাজারে চাহিদার পুরোটা অর্থাৎ ৮০ হাজার মেট্রিক টন খেজুরই রয়েছে। তবুও খুচরা বাজারে জাতভেদে খেজুরের দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খেজুরের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (টিসিবি অনুবিভাগ) মুর্শেদা জামান বলেন, ‘আমাদের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। ১৭ তারিখ (আজ) থেকে টিসিবির ট্রাকসেলে খেজুর বিক্রি করা শুরু হবে। তখন বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’
দেশে খেজুরের সংকট থাকার কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন এফবিসিসিআইর প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহীম খানও। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাধারণত ৬০ হাজার মেট্রিক টন খেজুর লাগে। কখনো কখনো তা ৮০ হাজার টনে পৌঁছায়। ব্যবসায়ীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন খেজুর আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা এরই মধ্যে ৫৬ হাজার মেট্রিক টন বাজারে প্রবেশ করেছে। ৪ হাজার মেট্রিক টন শিগগির বাজারে প্রবেশ করবে। এ ছাড়া আমাদের আগের মজুত রয়েছে। ফলে খেজুরের সংকট থাকছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যা প্রয়োজন আমরা হিসাব করে আমদানির অনুমতি দিয়েছি। ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত করেছেন, বাজারে খেজুর নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’
বাজারে মাবরুম, মরিয়ম, আজওয়া, মেডজুলসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের খেজুরের পাশাপাশি আম্বার, দাব্বাস, লুলু ও জাহেদি খেজুরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বায়তুল মোকাররম এলাকার বিক্রেতা মহিবুল হাসান বলেন, ‘রমজানের শুরুতে সবাই একমাসের হিসাবে খেজুর কেনে। সেজন্য কিছুটা চাপ তৈরি হয়। তবে রমজানের প্রথম সপ্তাহ গেলেই দাম কমে আগের জায়গায় চলে আসবে।’
মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা বজলুর রহমানের মতে, চাহিদার কারণে দাম বাড়লেও রোজা শুরু হলে তা কমে যায়।
এদিকে, আমদানিকারকদের সুবিধার্থে এনবিআর খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে, যা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে শুল্ক কমানোর কারণে দাম কমার কথা থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে তার প্রতিফলন বাজারে নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খেজুরের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ আমার কাছেও এসেছে। আমরা এ বিষয়ে সচেতন আছি। এরই মধ্যে ভোক্তা অধিকারকে সক্রিয় করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভোক্তা অধিকারকে বলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে কারসাজি হবে সেখানেই জরিমানা এবং শাস্তি দিয়ে বাজার ঠিক করা হবে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং রোজা একসঙ্গেই শুরু হচ্ছে। ফলে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিব্রত হয়—এমন কাজ আমরা করতে দেব না। বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠন করেছে। রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ করবে।’








