মার্চ ১, ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

ইন্ডাকশন নাকি ইনফ্রারেড চুলা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, অমৃতালোকঃ

গ্যাসসংকটের কারণে বর্তমানে রান্নার কাজে ইলেকট্রিক চুলার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। এ জন্য অনেকেই ঝুঁকছেন ইন্ডাকশন বা ইনফ্রারেড চুলার দিকে। দেখতে প্রায় একই হলেও কাজের ধরন, খরচ, নিরাপত্তা আর ব্যাবহারিক দিক থেকে এই দুই চুলার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। তাই কেনার আগে কোনটি রান্নাঘরের জন্য বেশি উপযোগী, তা জানা জরুরি।

ইন্ডাকশন চুলা  

চারকোনা আকৃতির ইন্ডাকশন কুকার, যার ওপরের অংশ কাচের তৈরি। এর ভেতরে থাকে একটি তামার তারের কয়েল, যা ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন প্রযুক্তিতে কাজ করে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি চৌম্বকীয় বলের মাধ্যমে কাজ করে। বিদ্যুৎ চালু হলে এই সেন্সর চৌম্বকীয় শক্তি তৈরি করে, যা সরাসরি রান্নার পাত্রকে গরম করে। এই প্রযুক্তির কারণে ইন্ডাকশন কুকারে তাপের অপচয় খুব কম হয়। এই চুলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিজে গরম হয় না। অর্থাৎ চুলার গ্লাসটি ঠান্ডা থাকে, কিন্তু এর ওপর রাখা পাত্রটি গরম হয়। এই চুলায় রান্না দ্রুত হয় এবং বিদ্যুৎ বিল তুলনামূলক কম আসে। তবে সব ধরনের পাত্র এতে ব্যবহার করা যায় না। শুধু লোহা বা স্টেইনলেস স্টিলের মতো চৌম্বকীয় গুণসম্পন্ন পাত্রই এতে কাজ করে। কাচ, অ্যালুমিনিয়াম বা মাটির পাত্র এখানে অচল।

ইনফ্রারেড চুলা 

এটি দেখতে ইন্ডাকশন চুলার মতোই চারকোনা এবং গ্লাসের তৈরি। কিন্তু এর কাজের পদ্ধতি ভিন্ন। এর ভেতরে থাকে হ্যালোজেন ল্যাম্প বা বিশেষ হিটার, যা বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ ছড়ায়। এটি অনেকটা সাধারণ হিটারের মতো কাজ করে। বিদ্যুৎ সংযোগ দিলে এর ভেতরের কয়েলটি লাল হয়ে জ্বলে ওঠে এবং প্রচুর তাপ বিকিরণ করে। এই তাপ ওপরের গ্লাসটিকে গরম করে এবং সেই তাপে রান্নার পাত্র গরম হয়। ইনফ্রারেড চুলার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে যেকোনো ধরনের পাত্র ব্যবহার করা যায়। স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, মাটি এমনকি কাচের পাত্রেও রান্না করা যায়। এটি বারবিকিউ বা গ্রিল করার জন্যও বেশ উপযোগী। তবে এর একটি বড় অসুবিধা হলো রান্নার সময় চুলার ওপরের গ্লাসটি প্রচণ্ড গরম হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় উচ্চ তাপে ব্যবহার করলে কাচ ফেটে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। বিদ্যুৎ খরচও ইন্ডাকশনের তুলনায় সামান্য বেশি হতে পারে।

স্থায়িত্ব, পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ

স্থায়িত্বের দিক থেকে ইন্ডাকশন চুলা কিছুটা এগিয়ে। কারণ এর গ্লাসটি সরাসরি গরম হয় না, তাই ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। অন্যদিকে ইনফ্রারেড চুলার গ্লাসটি উচ্চ তাপে গরম হয় বলে দীর্ঘক্ষণ একটানা ব্যবহারে বা হঠাৎ ঠান্ডা পানি পড়লে ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিষ্কারের ক্ষেত্রে দুটিই বেশ সহজ। ভেজা কাপড় দিয়ে মুছলেই ঝকঝকে হয়ে যায়। তবে ইনফ্রারেড চুলা পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই এটি পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আধুনিক জীবনযাত্রায় এই দুই ধরনের চুলাই বেশ জনপ্রিয়, কারণ এগুলো ওজনে হালকা ও পোর্টেবল। চাইলে যেকোনো জায়গায় এগুলো সহজেই নিয়ে যাওয়া যায়। যেহেতু এখানে ধোঁয়া বা আগুনের শিখা নেই তাই এগুলো পরিবেশবান্ধব এবং রান্নাঘরকে রাখে একদম পরিষ্কার।

প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করেছে। ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড–দুটি চুলাই আধুনিক রান্নাঘরের জন্য চমৎকার সংযোজন।

যদি নিরাপত্তা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রধান লক্ষ্য হয়, তবে ইন্ডাকশন চুলা সেরা। আর যদি পাত্রের ঝামেলা ছাড়া সব ধরনের রান্না করতে চান তবে ইনফ্রারেড চুলা সঠিক পছন্দ।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ