সাজ্জাদ শুভ, অমৃতালোক :
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভোলার মুসলিমপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত দি এক্সিলেন্ট একাডেমী’র শুভ উদ্বোধন ও দোয়া অনুষ্ঠান শনিবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়েছে। একাডেমী প্রাঙ্গণে কেক কাটা, ফিতা কাটা, আলোচনা সভা এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক অমৃতালোকের সম্পাদক আলহাজ্ব এম. এ. আহাদ চৌধুরী তুহিন। প্রধান অতিথি ছিলেন ভোলা জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব রাইসুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভোলা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল গফুর।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ বশির হাওলাদার, ভোলা জেলা সাইবার দলের সভাপতি, মীর তানু, আব্দুর রব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, সাংবাদিক
মো. শাহিন কাদের সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষানুরাগী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাইসুল আলম বলেন, একটি শিশুর প্রকৃত শিক্ষা শুধু বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একজন আদর্শ মানুষ গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সমান দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে এ ধরনের আধুনিক ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ এম. এ. আহাদ চৌধুরী তুহিন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য মেধাবী খোঁজা নয়, মেধাবী তৈরি করা।” তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। সঠিক পরিচর্যা, যুগোপযোগী শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দক্ষ শিক্ষকের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই প্রতিভার বিকাশ ঘটানোই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। তিনি অভিভাবকদের আস্থা ও সহযোগিতা কামনা করে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি নির্ভর ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাধ্যমে পাঠদান পরিচালিত হবে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বায়োমেট্রিক হাজিরা ও তাৎক্ষণিক এসএমএসের মাধ্যমে অভিভাবকদের উপস্থিতি তথ্য জানানো, নিরাপদ ও মনোরম ক্যাম্পাস, খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত মাঠ, তৃতীয় শ্রেণি থেকে ইংরেজিতে কথোপকথনের বিশেষ প্রশিক্ষণ, নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রতিদিনের পাঠ ও হোমওয়ার্ক প্রকাশ, অনলাইনে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব, শিক্ষা সফর, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং অনলাইনে ফি পরিশোধের সুবিধা রাখা হয়েছে।
এছাড়া শ্রেণিকক্ষেই কার্যকরভাবে পাঠ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত হোমওয়ার্কের চাপ বা আলাদা প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন না হয়। প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, আনন্দময় ও শিক্ষার্থী-বান্ধব পরিবেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।








