সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,অমৃতালোক:

নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে এই সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ৫ দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: এ রিনিউড কল ফর এ ডিউরেবল সল্যুশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসলেও অনির্দিষ্টকাল একা এই দায়িত্ব বহন করা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রীর পেশ করা ৫ দফা প্রস্তাবগুলো হলো প্রত্যাবাসন রোডম্যাপ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করা। সহিংসতা বন্ধ ও অধিকার নিশ্চিত: মিয়ানমারে বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করা এবং নিজভূমিতে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়া, যাতে তারা প্রত্যাবাসনে আস্থা পান।

মানবিক সহায়তা ও স্থানীয় সমর্থন: রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদার আতিথেয়তা প্রদানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বজায় রাখা। ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি: আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) বিচারিক ও তদন্ত কার্যক্রমকে অব্যাহত সহায়তা দিয়ে গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন: মাদক পাচার, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রসহ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে এবং এই সংকটের উৎপত্তি ও সমাধান—উভয়ই মিয়ানমারেই নিহিত। তবে বর্তমান রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল নয়।

একই সঙ্গে ২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় মানবিক সহায়তার বাজেট কমানোর প্রবণতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতা কখনো রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গারা নিজেদের অধিকার নিয়ে নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে নিজ ঘরে ফিরে যাক এবং এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ