সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১২:২২ অপরাহ্ণ

৯ দিন পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে ২ জনকে জীবিত উদ্ধার

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক,অমৃতালোক:

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের ৯ দিন পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও বহু শ্রমিক সেখানে আটকা রয়েছেন। দেশটির একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে শত শত শ্রমিক আটকা পড়ার নয় দিন পর এই উদ্ধার অভিযান চালানো হলো।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেপালের মধ্যাঞ্চলের ত্রিশূলী নদী করিডরে অবস্থিত ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন যান্ত্রিক ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং যান্ত্রিক সুপারভাইজার কবির মহার্জন। বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

নেপালের ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলের ভেতর থেকে ওই দুইজনকে অল্প সময়ের ব্যবধানে উদ্ধার করা হয়। সেখানে নিখোঁজ ৪২ শ্রমিকের সন্ধানে টানেল খনন করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আসছিলেন উদ্ধারকারীরা।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় এক ডজন উদ্ধারকারী মাটির একটি ছোট গর্ত দিয়ে একজনকে বের করে আনছেন। নিরাপদে বেরিয়ে আসার পর উদ্ধারকারীরা হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

জাতীয় স্বাধীন পার্টির আইনপ্রণেতা ও প্রকৌশলী শ্রী রাম নিউপানে এ তথ্য জানিয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট পাহাড়ি ঢলের পর থেকে তিনি অনুসন্ধান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

প্রথমে সঞ্জয় সাহকে উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার অভিযান থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কবির মহার্জনকেও টানেল থেকে জীবিত বের করে আনা হয়।

নিউপানে জানান, টানেলের ভেতরে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে তথ্য পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। তাদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে, উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পান এবং সেখানে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। এরপর নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা জোরদার করে।

নিউপানের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল টানেলের ভেতরে ডাক দিয়ে বলেছিল, ‘ভয় পাবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।’ জবাবে ভেতর থেকে বলা হয়, ‘ঠিক আছে।’

পরে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হন, টানেলের ভেতরে একাধিক ব্যক্তি অবস্থান করছেন।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নুওয়াকোট জেলার পুলিশ প্রধান বিপিন রেগমি বলেন, উদ্ধারকারীরা ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছেন। ঘটনাস্থলে একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হচ্ছে।

জলবিদ্যুৎকেন্দ্রটির ভূগর্ভস্থ পাওয়ার হাউজে যাওয়ার টানেলটি চার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ। ভয়াবহ বন্যার সময় সেখানে কয়েক ডজন শ্রমিক কাজ করছিলেন।

ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত নেপালের কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিক ছিলেন। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে নদী ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে নেপালে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ