সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১:২৩ অপরাহ্ণ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ তারেক রহমানের

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোক :

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এখনও তারিখ ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। আবার এবারের নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীকও (মার্কা); কিন্তু তারপরও নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে রাজনৈতিক দলগুলোর হাতেই। ফলে, নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

সেখানে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা, প্রার্থীর যোগ্যতার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনে দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে তৃণমূল নেতাদের।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রংপুর বিভাগের নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলার পাশাপাশি রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা করেন। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সর্বস্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্বাচনে ভালো ফল করতে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের কথা বলা হয়েছে। সেখানে জনপ্রিয়তাকেই প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে ১৮ জুলাই রংপুর বিভাগের অন্য তিন জেলা—দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলার নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

শনিবারের বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব থানা ও উপজেলা নেতাদের দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সমস্যা দেখা দিলে তা জেলা পর্যায়ের নেতারা সমাধানের চেষ্টা করবেন। তারা ব্যর্থ হলে বিভাগীয় নেতারা চেষ্টা করবেন। তারাও ব্যর্থ হলে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজন নেতা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আপাতত সাংগঠনিক কার্যক্রম ধীরগতিতে পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারণ নতুন করে কমিটি হলে কেউ পদবঞ্চিত হতে পারেন, আবার কেউ কাঙ্ক্ষিত পদ নাও পেতে পারেন। এতে দলের অভ্যন্তরে নতুন করে দ্বন্দ্ব-বিভেদ সৃষ্টি হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনের ফলাফলে। এ কারণেই সাংগঠনিক কার্যক্রম ধীরে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির রংপুর বিভাগের একজন নেতা বলেন, ‘এটি মূলত একটি সাংগঠনিক আলোচনা সভা ছিল। মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন দিক ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। তবে স্থানীয়ভাবে নেতারা যদি একক প্রার্থী দিতে পারেন, তাহলে দলগতভাবে তাকেই সমর্থন দেওয়া হবে। এমনটাই আমাদের জানানো হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মঈনুল হাসান সাদিক গণমাধ্যমকে বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ের সব কোন্দল ও ভেদাভেদ দূর করার নির্দেশনা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।”

মঈনুল হাসান সাদিক বলেন, ‘এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া সম্পূর্ণ নির্দলীয় ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে হবে। দল ও সরকার যাতে কোনো প্রশ্নের মুখে না পড়ে, সেজন্য এখন থেকেই কাজ করার জন্য বলেছেন তারেক রহমান।’

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘এটি একটি ধারাবাহিক বৈঠক। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতেই এই মতবিনিময় সভা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।’

তিনি বলেন, সভায় প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ