অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ

সৌদি আরবে সেনা মোতায়েন করছে তুরস্ক ও পাকিস্তান

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক,অমৃতালোক:

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত আগ্রাসন ও হামলার মুখে সৌদি আরবের সুরক্ষায় ‘দ্রুত সেনা মোতায়েন’ (র‌্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট) করতে যাচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। নতুন স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সোমবার (৫ অক্টোবর) তিন দেশের পক্ষ থেকে যৌথভাবে ঘোষণা করা হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত আগস্টে দেশ তিনটি ঐতিহাসিকভাবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল শর্ত ছিল—মিত্র তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে বাকি দেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে তার সাহায্যে এগিয়ে আসবে। সামরিক শক্তির বিচারে এটি এক অভূতপূর্ব অক্ষ তৈরি করেছে; যেখানে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তিশালী সেনাবাহিনী তুরস্ক, মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের শীর্ষ প্রভাবশালী শক্তি সৌদি আরব এক পতাকাতলে আবদ্ধ হয়েছে।

পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতি হওয়ায় সোমবার রিয়াদে তিন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা এক জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সৌদি ভূখণ্ডে, বিশেষ করে পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীকে লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক আক্রমণগুলোর তীব্র নিন্দা জানানো হয়। যদিও আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর যেকোনো ধরনের হুমকি বা আঘাতকে তিন পক্ষই দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, পারস্পরিক যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ ঘটাতে তিন দেশই অবিলম্বে মাঠে নামার বিষয়ে একমত হয়েছে। চুক্তিতে সম্মত হওয়া সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সরবরাহ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সৌদি আরবের মাটিতে তাদের অতি দ্রুত সেনা মোতায়েন নিশ্চিত করা হবে। তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তুর্কি ও পাকিস্তানি বাহিনী ঠিক কী ধরনের সামরিক দায়িত্ব পালন করবে—তা যৌথ বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

চলতি বছরের জুলাই মাসে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করার পর থেকেই সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, তেল অবকাঠামো ও পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা। পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় সেপ্টেম্বরে, যখন হুতিদের আকস্মিক বড় অভিযানে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর হাত থেকে বিশাল এলাকা হাতছাড়া হয়ে যায়। সেই ধারাবাহিকতায় হারানো সব ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে রিয়াদের সরাসরি বিমান সহায়তায় সোমবার থেকেই দেশব্যাপী বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী; যার মধ্যে এমন কিছু অঞ্চলও রয়েছে যা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ