নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোক
টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রথমবারের মতো ভিনদেশি সবজি ক্যাপসিকাম চাষ করে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন কৃষি উদ্যোক্তা জয়নাল আবেদীন। ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবং উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের সহযোগিতায় তিনি প্রতিমাবংকী এলাকায় সমতল জনপদে এই বৈচিত্র্যময় সবজির চাষ শুরু করেছেন।
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা এই সবজিটি উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। জয়নাল আবেদীন তাঁর বাড়ির পাশে ২০ শতাংশ জমিতে মালচিং ও জৈব বালাইনাশক পদ্ধতিতে সবুজ, লাল ও হলুদ রঙের ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। বর্তমানে তাঁর খেতের সারি সারি গাছে থোকায় থোকায় দুলছে মিষ্টি ক্যাপসিকাম।
কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রচলিত ফসল চাষ করে আশানুরূপ মুনাফা না হওয়ায় তিনি কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শে ক্যাপসিকাম চাষে মনোনিবেশ করেন। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ২০ শতাংশ জমি থেকে তিনি প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি আয় করার আশা করছেন।
সফল এই উদ্যোক্তা জানান, আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এই সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এদিকে জয়নাল আবেদীনের এই অভাবনীয় সাফল্য দেখতে স্থানীয় কৃষকরা ভিড় করছেন। অনেকে তাঁর পরামর্শ নিয়ে এই লাভজনক সবজি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইসমত আরা খাতুন বলেন, বিষমুক্ত ও নিরাপদ উপায়ে ক্যাপসিকাম চাষের জন্য জয়নাল আবেদীনকে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে খেত থেকে ফল সংগ্রহ শুরু হয়েছে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় তিনি লাভবান হবেন বলে আমরা আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিয়ন্তা বর্মণ বলেন, ক্যাপসিকাম কেবল বাণিজ্যিক চাষ নয়, বরং পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটাতে টব বা ছাদেও চাষ করা যায়। এটি একটি উচ্চমূল্যের সবজি যা কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বেকার যুবকদের এই আধুনিক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।








