সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১:২৩ অপরাহ্ণ

সংঘাত এড়াতে আবারও আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক,অমৃতালোক:

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ মেটাতে আবারও আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক দিনের টানা পাল্টাপাল্টি হামলার পর, ঝুঁকির মুখে পড়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটি রক্ষার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারে এই আলোচনা পুনরায় শুরু হবে বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে একটি ১৪-দফা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই সমঝোতার কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলবে এবং আপাতত হামলা স্থগিত রেখে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স ও ইরানের সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের মধ্যে সফল আলোচনার পর ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল।

কিন্তু এর পরপরই দুপক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে এবং সংঘাত তীব্র রূপ নেয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর জবাবে মার্কিন বাহিনীও ইরানে পাল্টা হামলা চালায়। পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘এমন একটা সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তিসঙ্গত থাকতে পারব না… যদি এমনটা হয়, তাহলে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না!’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুমকির পরপরই রবিবার (২৮ জুন) ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর।

তাদের দাবি, পূর্ববর্তী মার্কিন হামলার জবাবেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, এই হামলায় তাদের কোনো সেনা হতাহত বা বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। কুয়েত জানিয়েছে, তারা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে বাহরাইনের একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন ডাকার অনুরোধ জানিয়েছে। কাতার জানিয়েছে, ওই এলাকায় সামরিক অভিযানের কারণে সৃষ্ট শ্র্যাপনেলের আঘাতে তাদের একজন নাগরিক নিহত এবং অপর একজন আহত হয়েছেন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে লেবাননেও। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি মূল শান্তি চুক্তিটি টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই এই অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটি করা হয়েছিল। মঙ্গলবারের কাতার বৈঠকের ওপরই এখন নির্ভর করছে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ শান্তি।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ