সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১:২৪ অপরাহ্ণ

শিক্ষায় পরিবর্তনের শুরু, বড় চ্যালেঞ্জ এখনো সামনে

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

বিশেষ প্রতিবেদন,অমৃতালোক:
গত ১৭ বছরে পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ ৫ বেড়েছে দ্রুত। সহজভাবে খাতা দেখা, সহানুভূতি নম্বর দেওয়া, প্রশ্ন ফাঁসসহ নানা কারণে পাসের হারের এই উল্লম্ফন।

এ ছাড়া অটোপাস ও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ভাটা পড়েছে। এর বিপরীতে ডবল জিপিএ ৫ পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেছে। এতে শিক্ষার মানের অবনতির চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। এমন বাস্তবতায় সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে শিক্ষা খাতকে টেনে তোলা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা খাতগুলোর একটি শিক্ষা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সে সময় নকল প্রতিরোধে ভূমিকা রেখে আলোচনায় আসেন তিনি।

২০২৬ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ফলে তাঁর কাছে জনপ্রত্যাশাও বাড়ে। দায়িত্ব নিয়েই নকল ও প্রশ্ন ফাঁস রোধে কঠোর বার্তা দেন তিনি। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরানো, জাতীয় কারিকুলাম পর্যালোচনা ও পরিমার্জন এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের কথাও বলেছিলেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ছয় মাসে শিক্ষার মান কতটা বেড়েছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন।

তবে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ফেরানো এবং কারিকুলাম পরিবর্তনের মতো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। তবে কারিগরি শিক্ষা সরকারের অগ্রাধিকারে থাকলেও সেখানে এখনো বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষায় সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বিনিয়োগ কমে যাওয়া। বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়েছে। গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৩৬ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিন বিভাগেই বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। গত কয়েক বছর শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত মিলিয়ে একসঙ্গে বরাদ্দ করা হলেও এবার শিক্ষা খাতকে প্রযুক্তি থেকে পৃথক করা হয়েছে। শিক্ষায় মোট বরাদ্দ ১৩.১ শতাংশ, টাকার অঙ্কে এক লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। জিডিপির হিসাবেও তা প্রায় ২ শতাংশ। শিক্ষা খাতে এটিকে পরিবর্তনের প্রথম সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষক অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সরকার একযোগে দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তাঁদের প্রথম ধাপের টাকা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুল ফিডিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

শিক্ষকসংকট দূর করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রাথমিকে ঝুলে থাকা ১৪ হাজার ৩০০ শিক্ষকের নিয়োগের নির্দেশনা জারি হয়েছে। ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতির জটিলতা দূর করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিকে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনটিআরসিএর মাধ্যমে ৭৭ হাজার এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক এবং ১৫ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষকদের বদলিও চালু হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের কারিকুলাম পরিমার্জনের পাশাপাশি কারিকুলামে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ছয় মাসে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অন্য মন্ত্রীদের তুলনায় বেশি আলোচনায় ছিলেন, বিশেষ করে পাবলিক প্লেস ও গণমাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য তাঁকে আলোচনায় রাখে। তবে ছয় মাসের শেষ দিকে এসে তিনি সেই অবস্থার অনেকটাই উত্তরণ ঘটাতে পেরেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পরীক্ষা পেছানো, অটোপাসসহ নানা দাবিতে সম্মত না হওয়ার ব্যাপারেও তিনি অনড় ছিলেন। এতে অনেক শিক্ষার্থী তাঁর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তবে অভিভাবকরা মনে করছেন, শিক্ষামন্ত্রী সঠিক জায়গায়ই আছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন। সম্প্র্রতি প্রকাশিত এসএসসির ফলেও পাসের হার ও জিপিএ ৫ কমেছে। শিক্ষাবিদরা এটিকে সঠিক মূল্যায়নের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

তবে সব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়নি। গত ছয় মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরসহ শিক্ষার দু-একটি দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে বদলি-পদায়ন নিয়ে অভিযোগ বেশি। যেসব বদলিতে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের কাউকে কাউকে পুনরায় আদেশ দিয়ে সরিয়েও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের জন্য নতুন বদলি নীতিমালা করা হয়েছে। এর পরও শিক্ষকরা মন্ত্রণালয়, মাউশি অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বদলি-পদায়নের জন্য দৌড়াদৌড়ি করছেন।

উচ্চশিক্ষাকেও সরকারের অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে। এটিকে আরো কর্মমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও শিল্প-সংযুক্ত করতে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর অংশীদারি, শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম সংস্কার, গবেষণা-উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

গত ছয় মাসে নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক (সম্মান) পর্যায় পর্যন্ত বিনা টিউশন ফি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর করপোরেট কর প্রত্যাহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক একাডেমিক কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আবার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ড আরো বেশি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের অংশ হিসেবে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

বিনা মূল্যে স্কুলড্রেস ও ব্যাগ প্রদানের জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতীয় কমিটি ও উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম চালানে এক লাখ পাঁচ হাজার সেট স্কুলড্রেস এবং ২৫ হাজার জোড়া উন্নতমানের জুতা সরকারের কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারে জমা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এগুলো বিতরণ শুরু করবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বলব ছয় মাস বেশি সময় নয়, আবার কম সময়ও নয়। সরকার শিক্ষায় বাজেট বাড়িয়েছে, আরো বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা খুবই ভালো উদ্যোগ। এ ছাড়া মাধ্যমিকে ওভারমার্কিং বাদ দেওয়া, বিদেশে পড়ার জন্য ১০ লাখ টাকার ঋণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ইতিবাচক উদ্যোগ। একই সঙ্গে সরকার কারিকুলাম পরিবর্তনের চেষ্টা করছে; কিন্তু আমরা কি আমাদের শিক্ষকদের রেডি করতে পেরেছি? শিক্ষকদের কি দক্ষ করতে পেরেছি? আমাদের শিক্ষার্থীরা এখনো ইংরেজি পারে না। অনেকে বাংলাও ঠিকমতো পারে না। আমরা আসলে কোন ধরনের নাগরিক তৈরি করতে চাই, কোন ধরনের স্কিল তৈরি করতে চাই, তা আগে ঠিক করতে হবে। এরপর সে অনুযায়ী কারিকুলাম ঠিক করতে হবে, শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে হবে।’ পরিমার্জন এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের কথাও বলেছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ছয় মাসে শিক্ষার মান কতটা বেড়েছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ফেরানো এবং কারিকুলাম পরিবর্তনের মতো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। তবে কারিগরি শিক্ষা সরকারের অগ্রাধিকারে থাকলেও সেখানে এখনো বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষায় সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বিনিয়োগ কমে যাওয়া। বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়েছে। গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৩৬ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিন বিভাগেই বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। গত কয়েক বছর শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত মিলিয়ে একসঙ্গে বরাদ্দ করা হলেও এবার শিক্ষা খাতকে প্রযুক্তি থেকে পৃথক করা হয়েছে। শিক্ষায় মোট বরাদ্দ ১৩.১ শতাংশ, টাকার অঙ্কে এক লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। জিডিপির হিসাবেও তা প্রায় ২ শতাংশ। শিক্ষা খাতে এটিকে পরিবর্তনের প্রথম সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষক অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সরকার একযোগে দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তাঁদের প্রথম ধাপের টাকা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুল ফিডিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

শিক্ষকসংকট দূর করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রাথমিকে ঝুলে থাকা ১৪ হাজার ৩০০ শিক্ষকের নিয়োগের নির্দেশনা জারি হয়েছে। ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতির জটিলতা দূর করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিকে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনটিআরসিএর মাধ্যমে ৭৭ হাজার এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক এবং ১৫ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষকদের বদলিও চালু হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের কারিকুলাম পরিমার্জনের পাশাপাশি কারিকুলামে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ছয় মাসে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অন্য মন্ত্রীদের তুলনায় বেশি আলোচনায় ছিলেন, বিশেষ করে পাবলিক প্লেস ও গণমাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য তাঁকে আলোচনায় রাখে। তবে ছয় মাসের শেষ দিকে এসে তিনি সেই অবস্থার অনেকটাই উত্তরণ ঘটাতে পেরেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পরীক্ষা পেছানো, অটোপাসসহ নানা দাবিতে সম্মত না হওয়ার ব্যাপারেও তিনি অনড় ছিলেন। এতে অনেক শিক্ষার্থী তাঁর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তবে অভিভাবকরা মনে করছেন, শিক্ষামন্ত্রী সঠিক জায়গায়ই আছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন। সম্প্র্রতি প্রকাশিত এসএসসির ফলেও পাসের হার ও জিপিএ ৫ কমেছে। শিক্ষাবিদরা এটিকে সঠিক মূল্যায়নের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

তবে সব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়নি। গত ছয় মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরসহ শিক্ষার দু-একটি দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে বদলি-পদায়ন নিয়ে অভিযোগ বেশি। যেসব বদলিতে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের কাউকে কাউকে পুনরায় আদেশ দিয়ে সরিয়েও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের জন্য নতুন বদলি নীতিমালা করা হয়েছে। এর পরও শিক্ষকরা মন্ত্রণালয়, মাউশি অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বদলি-পদায়নের জন্য দৌড়াদৌড়ি করছেন।

উচ্চশিক্ষাকেও সরকারের অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে। এটিকে আরো কর্মমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও শিল্প-সংযুক্ত করতে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর অংশীদারি, শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম সংস্কার, গবেষণা-উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

গত ছয় মাসে নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক (সম্মান) পর্যায় পর্যন্ত বিনা টিউশন ফি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর করপোরেট কর প্রত্যাহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক একাডেমিক কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আবার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ড আরো বেশি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের অংশ হিসেবে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

বিনা মূল্যে স্কুলড্রেস ও ব্যাগ প্রদানের জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতীয় কমিটি ও উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম চালানে এক লাখ পাঁচ হাজার সেট স্কুলড্রেস এবং ২৫ হাজার জোড়া উন্নতমানের জুতা সরকারের কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারে জমা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এগুলো বিতরণ শুরু করবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বলব ছয় মাস বেশি সময় নয়, আবার কম সময়ও নয়। সরকার শিক্ষায় বাজেট বাড়িয়েছে, আরো বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা খুবই ভালো উদ্যোগ। এ ছাড়া মাধ্যমিকে ওভারমার্কিং বাদ দেওয়া, বিদেশে পড়ার জন্য ১০ লাখ টাকার ঋণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ইতিবাচক উদ্যোগ। একই সঙ্গে সরকার কারিকুলাম পরিবর্তনের চেষ্টা করছে; কিন্তু আমরা কি আমাদের শিক্ষকদের রেডি করতে পেরেছি? শিক্ষকদের কি দক্ষ করতে পেরেছি? আমাদের শিক্ষার্থীরা এখনো ইংরেজি পারে না। অনেকে বাংলাও ঠিকমতো পারে না। আমরা আসলে কোন ধরনের নাগরিক তৈরি করতে চাই, কোন ধরনের স্কিল তৈরি করতে চাই, তা আগে ঠিক করতে হবে। এরপর সে অনুযায়ী কারিকুলাম ঠিক করতে হবে, শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে হবে।’

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ