সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১:২৩ অপরাহ্ণ

শতাব্দীর সেরা সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হলো পৃথিবী

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোক :

ইউরোপ, আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর আমেরিকার একাংশ আজ সাক্ষী হচ্ছে এক ঐতিহাসিক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের। মহাজাগতিক এই বিরল দৃশ্যের সময় চাঁদের ছায়ায় সূর্য পুরোপুরি ঢাকা পড়লেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ থেকে এটি দেখার কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে এই গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা প্রায় ২৬৪ মিনিট স্থায়ী হবে। রাশিয়ার উত্তর মেরু থেকে শুরু হয়ে গ্রিনল্যান্ড উপকূল দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এই ছায়া আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিজাভিকে পূর্ণগ্রাস হিসেবে দেখা যাবে। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম এবং ২১৯৬ সালের আগে শেষবারের মতো আইসল্যান্ডবাসী সরাসরি পূর্ণগ্রাস দেখার বিরল সুযোগ পাচ্ছেন। সবশেষে স্পেনের উত্তরাঞ্চল, পর্তুগাল ও বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের ঠিক আগে এই পূর্ণগ্রাস শেষ হবে।

পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড হলেও পৃথিবীর একটি বিশাল অংশে আংশিক সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের আকাশে সূর্যের ৯০ থেকে ৯৬ শতাংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়ছে। এ ছাড়া কানাডা, আলাস্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও আংশিক গ্রহণ দেখা যাচ্ছে।

পূর্ণগ্রাস চলাকালীন চাঁদ যখন সূর্যকে পুরোপুরি আড়াল করে, তখন দিনের আলো কয়েক মিনিটের জন্য গোধূলির মতো অন্ধকার হয়ে আসে। এ সময় হুট করে তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত কমে যায় এবং এক ধরনের শীতল আমেজ তৈরি হয়। বিজ্ঞানীদের কাছে এই মুহূর্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ সময়ে সূর্যের তীব্র রশ্মির কারণে এর বাইরের বায়ুমণ্ডল বা ‘করোনা’ দেখা না গেলেও পূর্ণগ্রাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা সূর্যের গঠন ও রহস্য উন্মোচনে সহায়ক হয়।

বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আকাশে এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা না গেলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে মানুষ এটি উপভোগ করতে পারছেন। এ ছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমেও এই গ্রহণ নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। গুগল অ্যাপ বা ক্রোম ব্রাউজারে ইংরেজিতে ‘solar-eclipse 2026’ লিখে সার্চ করলে ব্যবহারকারীরা বিশেষ গ্রাফিক্যাল দৃশ্য দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

দুই বছর আগে উত্তর আমেরিকায় একটি ঐতিহাসিক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হয়েছিল। এবারের গ্রহণটি ইউরোপের দেশগুলোর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক অঞ্চলে কয়েক দশক পর এমন দৃশ্য ফিরে এসেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, পরবর্তী কয়েক বছর এমন বড় মাপের মহাজাগতিক ঘটনা বিরল হতে পারে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ