অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ

মবের’ মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য ১ হাজার শিক্ষক সরকার চাকরি ফিরিয়ে দিয়েছে, তবু ফিরে পাচ্ছেন না কর্মস্থল

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক, অমৃতালোক:

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা বিভিন্ন এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষকসহ তিন সহস্রাধিক শিক্ষকের চাকরি ফিরিয়ে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) লিখিত চিঠিতে এসব শিক্ষককে স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশনাও রয়েছে। তবে এখনো ১ হাজারের মতো শিক্ষক তাদের কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি ‘মবের শিকার’ শিক্ষকদের কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে অটল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্যমতে, মূলত অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং, ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, স্থানীয় রাজনীতি এবং প্রভাবশালীদের বাধার কারণে এসব শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়েছে। মাউশি তদন্তও শুরু করেছে। এদিকে দুই বছর ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেক শিক্ষক। চাকরি ও কর্মস্থল ফিরে পেতে এ সংক্রান্ত তিন শতাধিক মামলাও হয়েছে। উচ্চ আদালতে রিট করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

এদিকে জোরপূর্বক পদত্যাগের বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালত থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এসেছে। একটি মামলায় ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট জোর করে নেওয়া পদত্যাগপত্রের আইনি বৈধতা নেই উল্লেখ করে গাজীপুরের সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া, সভাপতিকে অপসারণ এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধানের এমপিও বন্ধসহ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়। পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষক জোটের আহ্বায়ক ও ঢাকার ধামরাইয়ের সুয়াপুর নান্নার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, সরকারি আদেশ ও আদালতের নির্দেশনা কোনো কিছুই মানছে না বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তাকে স্বপদে বহাল রাখার জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে লিখিত আদেশ জারি করা হয়েছিল। লিখিত আদেশের কপি কমিটির সভাপতির কাছে জমাও দেন। কিন্তু সভাপতি অনুমতি দেননি।

পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার স্মৃতিচারণ করে আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পটপরিবর্তনজনিত সংকটকালে প্রতিষ্ঠানের কতিপয় সুবিধাবাদী শিক্ষক বহিরাগত দুর্বৃত্তদের নিয়ে আমার পদত্যাগ দাবি করে। মাধ্যমিক পর্যায়ের কোমলমতি শিশুদের ভুল বুঝিয়ে, অপপ্রচার করে তাদের ক্লাস থেকে রাস্তায় ও স্থানীয় বাজারে আন্দোলনে নামায়। অশ্লীল গালিগালাজ ও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে মাইকে ও পোস্টারে অপপ্রচার করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। শিক্ষকেরা তখন অধ্যক্ষের পদত্যাগ ছাড়া আলোচনায় বসতে রাজি নন। এমনকি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করার হুমকি দেন তারা। একটানা সাত দিন স্কুলের ক্লাস বন্ধ করে, সামনের রাস্তা আটকে দিয়ে বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়। এমতাবস্থায় ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গভর্নিং বডির তত্কালীন সভাপতি ড. সাইদুর রহমান সেলিম এলাকার ১৪-১৫ জন লোক নিয়ে ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে আমাকে ডেকে নেন। আমাকে অফিসে নিয়ে আগে থেকে লিখে রাখা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন।’ ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ঢাকা জেলা প্রশাসক কর্তৃক ধামরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মাধ্যমে পরিচালিত তদন্তেও দেখা গেছে যে, অধ্যক্ষকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে বর্তমান স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক তদন্তেও একই তথ্য উঠে এসেছে, অর্থাত্ তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়েছে ও এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাকে তার পদে পুনর্বহালের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদালতও তার পদত্যাগপত্র বাতিল করে তাকে পুনর্বহালের আদেশ দেন। তারপরও তিনি কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। কর্মস্থলে যোগ দিতে বর্তমান গভর্নিং বডির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি তিনি।

এ ব্যাপারে আসাদুজ্জামান খান ইত্তেফাককে বলেন, তাকে কেন যোগদান করতে দেওয়া হচ্ছে না- সেই বিষয়টি তিনি জেলা শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। আগের কমিটির সভায় তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সরকারের নির্দেশ মানছেন না কেন-এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান। প্রসঙ্গত, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ইএফটিতে বেতন নেওয়ার জন্য প্রতি মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি থেকে তালিকা পাঠাতে হয়। এই তালিকায় উল্লিখিত সহস্রাধিক শিক্ষকের নাম রাখছে না কমিটি। এ কারণে সরকার চাকরি ফিরিয়ে দিলেও বেতন পাচ্ছেন না তারা।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আনোয়ারুলের মতোই সারা দেশের বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের ৩ হাজার ১০০ শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে জোর করে পদত্যাগ করানোর ঘটনা বন্ধ করতে নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষকদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরমধ্যে ২ হাজার ১০০ শিক্ষকের বেতন চালু হলেও বাকি ১ হাজারের মতো শিক্ষক দুই বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে তারা কর্মস্থলেও ফিরতে পারছেন না। তাদের নাম ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফারে (ইএফটি) অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বেতন চালু রাখতে তিন দফা নির্দেশনা দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি। কিন্তু সেই নির্দেশ মানেননি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধানরা। দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না অনাপত্তিপত্র। এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ছুটতে হচ্ছে তাদেরকে। কখনো শিক্ষা অফিস, কখনো আদালত, কখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দরজায়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কিছু শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা পদত্যাগ করতে বাধ্য করলে এর সুযোগ নেন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগসন্ধানী শিক্ষকরাই। ঐ সময় দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানো হয়, লাঞ্ছিত করা হয়। জোর করে তাদেরকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করানো হয়। অবশ্য এসব শিক্ষকের কারো কারো শিক্ষকতার বাইরের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলেন, অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে আইনের আওতায় উপযুক্ত শাস্তির বিধান রয়েছে। তা না করে যখন মবের মাধ্যমে শিক্ষকদের অপদস্থ হতে হয়, তখন আঘাতটা শুধু ব্যক্তির ওপর পড়ে না। আঘাত লাগে শিক্ষকতার পেশাগত মান-মর্যাদাতেও।

রাজধানীর আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন নাজমা বেগম। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করেন তারই সহকর্মী ও কিছু শিক্ষার্থী। ঐ দিনই কমিটির অনুমতি ছাড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন আরেক জন। বন্ধ হয়ে যায় নাজমা বেগমের বেতন। করা হয় ফৌজদারি আইনে মামলাও। এরপর বিদ্যালয়ে তদন্তকাজে গেলে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন নাজমা। অচেতন অবস্থায় তাকে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পুলিশ দিয়ে থানায়ও নেওয়া হয়। নাজমা বেগমের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) তদন্ত করেন। তদন্তে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তার বেতন ছাড় করে মাউশি। এরপরও পদায়ন ও বেতন মেলেনি। দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না অনাপত্তিপত্র। নাজমা বেগম বলেন, ‘ঢাকার একজন এমপির ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে, হাইকোর্টে মামলাও হয়েছে। হাইকোর্ট পদত্যাগকৃত শিক্ষকদের পক্ষে সর্বজনীন রায় দিয়েছেন। এর পরও পাসওয়ার্ড ও এনওসি দেওয়া হচ্ছে না। ঘুরতে ঘুরতে আমি দিশাহারা।’

রাজধানীর উত্তর কাফরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাম্মী আক্তারের ক্ষেত্রেও একটি ভিডিওতে একদল শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনকে তার কক্ষে অবস্থান নিয়ে পদত্যাগের জন্য চাপ দিতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তার হাতেকলম ধরিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর দৃশ্যও দেখা যায়। বাড্ডার আব্দুল খালেক মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়শা আক্তারের কক্ষে শিক্ষার্থী ও এক দল বহিরাগত ঢুকে তাকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করে এবং তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামের টাইগারপাস বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি শিক্ষা বোর্ডের চিঠি নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে গিয়ে আবারও হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত ভিডিওতে কয়েক জনকে তাকে ধাক্কা দিয়ে বিদ্যালয়ের বাইরে বের করে দিতে দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মব সৃষ্টি করে অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী ও সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা খানমকে ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এই মব সৃষ্টি করেন ভিকারুননিসার প্রাক্তন কিছু শিক্ষার্থী ও কয়েক জন শিক্ষক। জানা গেছে, প্রাক্তন দুুই জন শিক্ষার্থী স্কুল থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা না পেয়ে এই মবে নেতৃত্ব দেয়।

মাউশির আইন শাখা সূত্র জানায়, সারা দেশে অন্তত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মবের ঘটনা ঘটে। কোথাও এক জন, কোথাও একাধিক শিক্ষক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত কোনো কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ নেই। কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। এদিকে কেউ চাকরি ফিরে পেয়েছেন, কিন্তু বকেয়া বেতন-ভাতা আটকে আছে। ফলে কর্মস্থলে ফেরার লড়াই শেষ হওয়ার পর শুরু হয়েছে আরেক দফা প্রশাসনিক ভোগান্তি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন অধ্যাপক বলেন, শিক্ষকদের দোষ থাকলে আইনের আওতায় আনা যেত। চাকরিচ্যুত ও পদ অবনমনের সুযোগও ছিল। কিন্তু মবের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকতা পেশায় যে ক্ষত হয়েছে, তা সারতে বা পূরণে দীর্ঘ সময় লাগবে।

মবের শিকার শিক্ষকদের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই :মাউশির একজন পরিচালক বলেন, সারা দেশে কতজন শিক্ষক মবের শিকার হয়ে প্রতিষ্ঠানের বাইরে রয়েছেন, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা সংরক্ষণ করে রাখা হয় না। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বিচ্ছিন্নভাবে অভিযোগ আসে, শিক্ষকরা যোগাযোগ করেন। আমরা সে অনুযায়ী তদন্ত ও ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক বলেন, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যোগদানের চিঠি দেওয়া হলেও স্থানীয়ভাবে অনেক শিক্ষককে যোগদান করতে দেওয়া হচ্ছে না। ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা বাধা দিচ্ছেন। ফলে সরকারি আদেশের পরও অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

পদত্যাগে বাধ্য আট শিক্ষকের মৃত্যু, নানা প্রশ্ন :পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষক জোটের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, জোরপূর্বক পদত্যাগ ও হেনস্তার পর শারীরিক ও মানসিক আঘাত, হতাশা ও স্ট্রোকসহ নানা অসুস্থতার মধ্যে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

ফ্যাসিস্টের দোসর ট্যাগ পেয়ে ক্ষুব্ধ :পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষক জোটের নেতা এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনি আক্তার মিলি ইত্তেফাককে বলেন, অনৈতিক সুবিধা পেতে সরকারের নির্দেশ মানছেন না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান কমিটি। শিক্ষকদের জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়েও ফ্যাসিস্টের দোসর ট্যাগ পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ