মার্চ ১, ২০২৬ ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বখ্যাত মিউজিক প্ল্যাটফর্ম স্প্লাইসে আরমীন মুসার ‘বাংলা বাউল ফোক ভোকাল’ প্রকাশিত

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
সংগৃহীত ছবি

বিনোদন ডেস্ক,অমৃতালোক:

বিশ্বজুড়ে সংগীত প্রযোজক, সুরকার এবং ডিজেদের অন্যতম প্রধান অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘স্প্লাইস’-এ জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের লোকজ সুর। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক আরমীন মুসা সম্প্রতি এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করেছেন তাঁর নতুন মিউজিক প্রজেক্ট ‘বাংলা বাউল ফোক ভোকাল’। শত বছরের পুরোনো বাংলার আধ্যাত্মিক বাউল গানের শক্তি ও আবেগীয় গভীরতাকে আধুনিক সংগীতের সাথে সমন্বয় করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রজেক্টটি মূলত বিশ্বমানের মিউজিক স্যাম্পল প্যাক হিসেবে কাজ করবে, যা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের ইলেকট্রনিক মিউজিক, চলচ্চিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর কিংবা পরীক্ষামূলক সংগীত আয়োজন করা সম্ভব হবে।

প্রজেক্টটি তৈরি করা হয়েছে ভারতীয় প্রখ্যাত সুরকার ধ্রুব গোয়েলের মিউজিক লেবেল ‘আরহ’-র সাথে যৌথভাবে। বাংলার বাউল দর্শনের আধ্যাত্মিক ও কাব্যিক নির্যাস যেন আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, সেই চিন্তা থেকেই আরমীন মুসা এটি প্রযোজনা করেছেন। এই সংগ্রহে থাকা রয়্যালটি-মুক্ত ভোকালগুলো বিদেশি প্রযোজকদের জন্য বাংলা লোকসংগীত নিয়ে কাজ করার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই স্যাম্পল প্যাকটির সাউন্ড মিক্সিং করেছেন ইফতেখারুল আলম শুভ।

‘বাংলা বাউল ফোক ভোকাল’-এর মূল আকর্ষণ হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রখ্যাত বাউলশিল্পী বেবি আখতার এবং লোকমান সিদ্দিকী। তাঁদের কণ্ঠে বাউল সংগীতের সেই চিরাচরিত স্বতঃস্ফূর্ততা এবং মাটির গন্ধ নিখুঁতভাবে ধারণ করা হয়েছে। আরমীন মুসা জানান, বেবি আখতার এবং লোকমান সিদ্দিকীর গায়কী এই প্রকল্পের মূল প্রাণ। তাঁদের কণ্ঠের গভীরতা আন্তর্জাতিক সংগীত বোদ্ধাদের মুগ্ধ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এর আগে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রযোজক কিশোন খানও বেবি আখতারকে নিয়ে কাজ করেছিলেন, যেখানে বাউল সুরকে জ্যাজ ও সমসাময়িক ঘরানায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। আরমীন মুসার এই প্রজেক্টটি বাউল সুরকে কেবল একটি ঐতিহ্য হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক সংগীতের একটি শক্তিশালী উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

উল্লেখ্য যে, বিশ্বখ্যাত এই প্ল্যাটফর্মে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় কোনো স্যাম্পল প্যাক। এর আগে আরমীন মুসাই ‘সমকালীন বাংলা কোরাস’ শিরোনামে প্রথম বাংলাদেশি প্রজেক্টটি স্প্লাইসে নিয়ে এসেছিলেন। দ্বিতীয় এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংগীত বাজারে বাংলাদেশের লোকসংগীতের অবস্থান আরও সুসংহত হলো। আরমীন মুসার এই উদ্যোগ কেবল দেশীয় ঐতিহ্যের সংরক্ষণই নয়, বরং আধুনিক সংগীত জগতের সাথে একে মানানসই করে তোলার এক সময়োপযোগী প্রচেষ্টা হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে। সংগীতাঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্পের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন ফিউশন ও ইলেকট্রনিক সংগীতে বাংলার বাউল সুরের সরব উপস্থিতি দেখা যাবে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ