মার্চ ১, ২০২৬ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচনে সহিংসতার অগ্রীম সতর্কবার্তা দিল ক্রাইসিস গ্রুপ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
সংগৃহীত ছবি

নিউজ ডেস্ক, অমৃতালোক:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও গভীর অনিশ্চয়তার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)।

অন্তর্বর্তী সরকার যখন ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক এমন সময়ে এই উদ্বেগ প্রকাশ করল ব্রাসেলস-ভিত্তিক সংঘাত প্রতিরোধ বিষয়ক সংস্থাটি।

নির্বাচনের ঝুঁকি সংক্রান্ত বিষয়ের উপর করা নতুন এক বিশ্লেষণে সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে ব্যাপক পরিবর্তন আসায় ফলাফল কী হতে পারে তা আগে থেকে বলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপের তথ্য উল্লেখ করে আইসিজি জানায়, নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে বিএনপি। তবে জামায়াত তাদের আগের যেকোনো নির্বাচনি পারফরম্যান্সকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।

ক্রাইসিস গ্রুপ বলছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো নিরাপত্তা ঝুঁকি। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ১৬ জন রাজনীতিবিদ নিহত হয়েছেন। ফলে প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং আওয়ামী লীগ সমর্থক ও হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা বেড়েছে।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশ বিষয়ক আইসিজি’র সিনিয়র কনসালট্যান্ট থমাস কিন বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা করা চ্যালেঞ্জিং, কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট গত কয়েক মাসে অনেক বদলে গেছে।”

থমাস কিন সতর্ক করে বলেন, ফলাফল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তা বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গড়ে ওঠা ভঙ্গুর ঐকমত্যকে নষ্ট করে দিতে পারে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও পরবর্তী সরকারের ওপর জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের তীব্র চাপ থাকবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা এবং শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। থমাস কিন আরও যোগ করেন, ‘জুলাই চার্টার’সহ প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জনগণের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো ছিল নেহায়েত উপরিভাগের।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোট আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের গতিপথ নির্ধারণে চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ