এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ণ

দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির দাপট, বিকল্প শক্তি গঠনের ডাক নাহিদ ইসলামের

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোক :
সারাদেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের জনরায় ও গণভোটকে সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে দেশের সামগ্রিক ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জায়গায় কেবল বিএনপি প্রতিস্থাপিত হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় সংস্কারের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা নষ্ট করে দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কেবল দল বা ব্যক্তির পরিবর্তন চাই না; আমরা সামগ্রিক ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তন চাই। এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) ব্যারিস্টার সানি ছাড়াও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন।

নতুনদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একই আকাঙ্ক্ষার জায়গা থেকে তারুণ্যের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন, আমরা তাদের বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। দেশটাকে আবার আগের কোনো বন্দোবস্তের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না, তাই একটি বৃহত্তর কোয়ালিশন বা জোট গঠনই আমাদের লক্ষ্য।’

এনসিপিতে যোগদানের ক্ষেত্রে সাবেক রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয় বলে জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ কিংবা ছাত্রলীগ—কারও সাবেক পরিচয় আমাদের কাছে বড় নয়। আজ থেকে যারা এনসিপিতে আসবে, তারা এনসিপির সংগঠক হিসেবেই পরিচিত হবে।’

তবে একটি বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিজম, গণহত্যা, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি আমাদের দলে স্থান পাবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে তৈরি হওয়া আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সব ধর্ম, বর্ণ, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ