মার্চ ১, ২০২৬ ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়াতে হবে

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শেষ মুহূর্তের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোট প্রার্থনা করতে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। নানামুখী আলোচনা-সমালোচনার ভেতর দিয়ে সভা-সমাবেশ করছেন তারা। দেশের অনেক জায়গায় নিজ নিজ দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে দলীয় প্রধানরাও সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। যেখান থেকে চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। যা বেশ উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মারামারি, হানাহানির ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর মৃত্যুও হয়েছে। ফলে এসব জায়গায় দিন দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এখানে থাকা অনেক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই এসব জায়গায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অনেক দলের পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এ ধরনের অস্থিরতা নির্বাচনি সুষ্ঠু পরিবেশকে বেশ প্রভাবিত করছে। তাই ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এখনই নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশের যেসব আসনে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে সেখানে আইনশৃক্সক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোটাররা যেন তাদের পছন্দমতো প্রার্থীদের নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেই ব্যবস্থা করে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্র রক্ষার এ নির্বাচন যেন কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। পেশিশক্তি বা আধিপত্য বিস্তারকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
একসময় এ দেশের মানুষ ভোটকে উৎসব হিসেবে মনে করত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই জায়গা অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ দেশে ভোট নিয়ে মানুষের মাতামাতি করতে দেখা যায়নি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশকিছু পাতানো ভোট মানুষের এই আগ্রহের জায়গাটা নষ্ট করে দিয়েছিল। মানুষের মনে সেই আগের মতো স্বতঃস্ফূর্ত আমেজ বহুদিন ধরে লক্ষ করা যায়নি। তবে সবশেষ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। স্বাধীন মতো সভা-সমাবেশ করতে পারায় নির্বাচনি একটি আমেজ বিরাজ করছে দেশজুড়ে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই নির্বাচনি উৎসব যাতে আর কখনো হারিয়ে না যায় তার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে। এরমধ্যে ৮ হাজার ৭৪৬টি ভোটকেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। যেখানে সবথেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত হয়েছে রাজধানীতে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকাতে প্রায় সাড়ে ২৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া সারা দেশের অনান্য বিভাগেও এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে প্রতিটি আসনেই কম-বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার মাত্রার ওপর নির্ভর করেই মূলত এসব ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনিটরিং এবং ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে নির্বাচন কমিশনকে সবধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। এর জন্য সরকারের সহযোগিতা আরও বেশি প্রয়োজন।
যদিও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন নতুন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যা নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে অনেকটা আশার আলো দেখাচ্ছে। আমরা দেখেছি, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যেহেতু বড় অঙ্কের একটি বরাদ্দ দিয়ে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে; সেহেতু এগুলো যেন ঠিকমতো নির্বাচন পূর্ববর্তী এবং নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ শুরু থেকে ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত ঠিকমতো কাজ করে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ইউনিফর্মে বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যা নিরাপত্তায় আরও বেশি কাজ দেবে বলে আশা রাখা যায়। এ ছাড়া উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে কোস্ট গার্ড ও বিজিবি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করবে।
এগুলো ঠিকমতো করতে পারলে ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনি দায়িত্বে যেসব পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে তারা যেন দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আরও বেশি খেয়াল রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের জন্য সবসময় মোবাইল টিম প্রস্তুত রাখতে হবে। নির্বাচনের আগে থেকেই এসব কেন্দ্রে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের মহড়া ও ব্যবহার যাতে না হয় সে দিকেও তাদের লক্ষ রাখতে হবে।
জুলাই বিপ্লবের সময় খোয়া যাওয়া অস্ত্র সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের অন্যতম অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে। তাই নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধে পুলিশ ও অনান্য বাহিনীর দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। নির্বাচন-পূর্ববর্তী সহিংসতাগুলো কঠোরভাবে দমন করা না গেলে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোতে সহিংসতা আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। এতে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তাই সবমিলিয়ে, রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের বিভাগীয় শহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিকল্প নেই।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ