এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন থেকে বাজার, প্রভাব পড়বে সব খাতে

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

বিশেষ প্রতিবেদন,অমৃতালোক:

উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর পরপরই দেশের পরিবহন খাত ও নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার দিনই খুচরা পর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং সামনে বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে, যা বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা অনিশ্চিত। ফলে দাম বাড়লেও সরবরাহ বাড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গবেষণা সংস্থা সিপিডির পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বিকল্প পদক্ষেপ না নিলে বর্তমান মূল্যস্ফীতি ১৩ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে, যা গত মাসে ছিল ৯ শতাংশের নিচে। তিনি মনে করেন, তেলের দাম বাড়ানো সরকারের জন্য নিরুপায় সিদ্ধান্ত হলেও ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে শুল্ক সমন্বয় করা জরুরি।

ফেব্রুয়ারি থেকে চলা তেল সংকটের পর নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় গণপরিবহন ও রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া বাড়বে। কৃষি খাতে ব্যবহৃত ডিজেলের চাহিদা মোট আমদানির প্রায় ২০ শতাংশ। বর্তমান বোরো মৌসুমে সেচ ও কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনের ব্যয় কয়েক গুণ বাড়তে পারে। এতে চালসহ সব ধরনের কৃষিপণ্যের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে এখনই চাল, ভোজ্য তেল ও সবজির দাম চড়া। পরিবহন ব্যয় বাড়লে এই প্রবণতা আরও তীব্র হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি ব্যয় ও দেশীয় কাঁচামাল পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম সমন্বয় ছাড়া উপায় নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সরকার বাজার মনিটরিংয়ে কঠোর না হলে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম অনেক বেড়েছে এবং সরকারি তহবিলের ওপর চাপ কমাতে এই সমন্বয় অনিবার্য ছিল। তবে তাঁর দাবি, এই বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব হবে নগণ্য। অন্যদিকে, বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এবং দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হবে। মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও জিডিপি হ্রাসের ঝুঁকি এড়াতে সরকারের জোরালো ভূমিকার প্রত্যাশা করছেন সাধারণ জনগণ।

-জ.ই.বিদ্যুৎ

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ