নিজস্ব প্রতিবেদক, অমৃতালোক:
নাটোর রেলস্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগার থেকে চুরি হওয়া নিজের ম্যাকবুক ও ডিএসএলআর ক্যামেরার খোঁজে রাজশাহীতে এসেছিলেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার। তবে জিনিসপত্র উদ্ধার না হওয়ায় সেগুলো ছাড়াই ঢাকায় ফিরে গেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন এই পর্যটক। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার বিকেলে নাটোর রেলস্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগার থেকে ১৮ বছর বয়সী ক্রিল ল্যান্ডারের জিনিসপত্র চুরি হয়।
এ ঘটনায় তিনি নাটোর সদর থানায় বিষয়টি জানান।
এর আগে বগুড়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে বুধবার দুপুরে সান্তাহার রেলস্টেশন থেকে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে নাটোরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বিকেলে নাটোর রেলস্টেশনে নামেন। সেখান থেকে অন্য ট্রেনে ভারত যাওয়ার জন্য দর্শনা স্টেশনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
চুরি হওয়া জিনিসপত্রের অবস্থান রাজশাহীতে দেখা যাওয়ায় বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে সেখানে আসেন ক্রিল ল্যান্ডার। রাতে রাজশাহী রেলস্টেশনের একটি হোটেলে তাঁর থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ। পরদিন সকাল থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তিনি রাজশাহী রেলওয়ে থানায় ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, নাটোর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় নিজের জিনিসপত্র দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যান এক ব্যক্তিকে।
ওই ব্যক্তি নিজেকে রেলওয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছিলেন। টাকা তুলে ফিরে এসে দেখেন, ওই ব্যক্তি ও তাঁর ব্যাগ—দুটিই নেই। পরে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি রেলওয়ের কেউ নন।
ক্রিল ল্যান্ডার আরো বলেন, তাঁর পাসপোর্ট ও মুঠোফোন সঙ্গে রয়েছে। তবে ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা আছে। তিনি আশা করছেন, জিনিসপত্র ফিরে পাবেন। বাংলাদেশে এটিই তাঁর প্রথম ভ্রমণ। এ সময় পুলিশের সহযোগিতারও প্রশংসা করেন তিনি।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, প্রথমে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় দেখা যায়। পরে রাত ১১টার দিকে মহিলা কলেজের আশপাশে অবস্থান শনাক্ত হয়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, বোয়ালিয়া থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। তবে ল্যাপটপে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রাতে অবস্থানেরও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
ওসি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে আব্দুলপুর রেলস্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত হয়। তখন রেলওয়ে পুলিশ তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে তল্লাশি চালায়। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। বিদেশি পর্যটক আমাদের মেহমান। তাঁর জিনিসপত্র যাতে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে জন্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।’








