অনলাইন ডেস্ক, অমৃতালোক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা থাকলেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা ও রক্তপাত থামছে না। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, সর্বশেষ রাতভর চালানো ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চার বছরের এক নিষ্পাপ শিশুও রয়েছে। বিশেষ করে গাজা ও মিসরের মধ্যকার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ ক্রসিং সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় এই প্রাণহানির ঘটনা অঞ্চলটিতে নতুন করে শোকের ছায়া ফেলেছে। কেবল গাজা নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকোতে এক সামরিক অভিযান চলাকালে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৫০০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিগত দুই বছরে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ৮০৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৫৭৫ জন। জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবসম্মত বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। ক্রমাগত হামলায় গাজার অধিকাংশ এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যেখানে ২০০৭ সাল থেকে আরোপিত অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আগে থেকেই চরম সংকটের মুখে ছিল।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে এই অস্থিরতা নিরসনে নানা আলোচনা চললেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার জেরুসালেমে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। তবে এই আলোচনার ভেতরে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বা স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে দুই বছর পর রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু করার দ্বিতীয় দিনে মাত্র ১৬ জন মুমূর্ষু রোগী ও তাদের আত্মীয়দের চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। সামগ্রিকভাবে গাজায় চলমান এই মানবিক বিপর্যয় বিশ্বব্যাপী তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।








