নিউজ ডেস্ক,অমৃতালোক:
ইমরান খানের স্বাস্থ্যের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে চলমান বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দাবি করেছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য গোপনে কারাগার থেকে হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
পিটিআই এই গোপন স্থানান্তরকে মৌলিক অধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে এবং সতর্কতা দিয়েছে যে এটি তাঁর জীবনকে বিপন্ন করতে পারে।
এক বিবৃতিতে পিটিআই জানিয়েছে, পরিবারকে অন্ধকারে রেখে কর্তৃপক্ষ ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নিতে পারে এমন খবরে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দলটি বলে, “আমাদের নেতা ইমরান খানকে তাঁর পরিবারকে না জানিয়ে গোপনে হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সংক্রান্ত খবর ও জল্পনায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড মৌলিক মানবাধিকার এবং প্রচলিত আইনি বাধ্যবাধকতা উভয়েরই চরম লঙ্ঘন।
দলটি জেদ ধরেছে, যে কোনো শারীরিক পরীক্ষা অবশ্যই ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং অন্তত একজন পারিবারিক সদস্যের উপস্থিতিতে হতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে যে কোনো ধরনের গোপনীয়তাকে আমরা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি। অতীতের মতো আবারও তথ্য গোপন করা ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও জীবনকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলার শামিল।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি গত শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে ইসলামাবাদের নবনির্মিত কারাগারটি চালু হলে ইমরান খানকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে। নকভির মতে, নতুন ওই কারাগারে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থাকবে।
২০২৩ সালের আগস্টে একটি দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে যখন আদিয়ালা কারাগারে দীর্ঘদিনের নির্জন কারাবাস এবং অবহেলার কারণে ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়া এবং স্বাস্থ্যের চরম অবনতির খবর সামনে এসেছে।
সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত আইনজীবী সালমান সাফদারের তৈরি একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন, থেকে জানা গেছে, কারা কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় ইমরান খান তাঁর ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
পিটিআই কর্তৃপক্ষের এই আচরণকে ‘পরিকল্পিত, অমানবিক ও বেআইনি’ বলে বর্ণনা করেছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই বিলম্বকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে দলটি অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে।
ইমরান খানের সমর্থকদের কাছে এই তথ্যগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সেই অভিযোগকেই নিশ্চিত করছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত ‘ডিপ স্টেট’ এক জনপ্রিয় বেসামরিক নেতাকে শারীরিক-মানসিকভাবে ভেঙে দেয়ার হাতিয়ার হিসেবে এই কারাবাসকে ব্যবহার করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমরান খান নিজে জানিয়েছেন, তিনি বেঁচে থাকার মৌলিক নূন্যতম চাহিদা ছাড়া আর কিছুই আশা করছেন না।








