মার্চ ১, ২০২৬ ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

ইফতারে ক্লান্তি দূর করতে ভেষজ পানীয়

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
ছবি-অনলাইন

লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক,অমৃতালোক

পশ্চিমের আকাশে তখন গোধূলির শেষ আভা। মসজিদের মিনার থেকে সুমধুর আজান ভেসে আসার অপেক্ষা। সারাদিনের ক্লান্তি, তৃষ্ণা আর উপবাসের শেষে এক গ্লাস পানি যখন আমাদের ঠোঁট স্পর্শ করে, তখন মনে হয়, স্রষ্টার কী এক অপরিসীম রহমত এই প্রকৃতি! রমজান শুধু উপবাস নয়, এটি দেহ ও আত্মার এক গভীর শুদ্ধি প্রক্রিয়া। স্রষ্টা আমাদের এই শরীর দিয়েছেন ‘আমানত’ হিসেবে, আর প্রকৃতিতে ছড়িয়ে দিয়েছেন অগণিত শেকড়-বাকড় ও ফলমূল যা এই শরীরকে সজীব রাখে।

কিন্তু ইফতারের ওই পবিত্র মুহূর্তটিতে আমরা কি অজান্তেই শরীরের ওপর অবিচার করছি না? সারাদিন যে পাকস্থলীটি বিশ্রামে ছিল, তাকে ডুবিয়ে দিচ্ছি তেলের সাগরে। অথচ আমাদের হাতের কাছেই আছে প্রকৃতির নিজস্ব নিরাময় ব্যবস্থা। আসুন, এবারের রমজানে আমরা ফিরে তাকাই সেই আদি ও অকৃত্রিম উৎসের দিকে। ভাজাপোড়ার ঝাঁজালো স্বাদ নয়, বরং প্রকৃতির স্নিগ্ধতা আর ভেষজ স্পর্শে প্রশান্ত হোক আমাদের ইফতারের দস্তরখান।

তোকমা ও ইসবগুল : রোজার দিনে শরীর যখন পানিশূন্যতায় কাতর, তখন তোকমা বা ইসবগুল হতে পারে পরম বন্ধু। গ্লাসের পানিতে তোকমা দানাগুলো যখন ফুলে ওঠে, তখন এক অদ্ভুত জ্যামিতিক সৌন্দর্য তৈরি হয়। এই ভিজে যাওয়া বীজের বাইরের পিচ্ছিল আবরণ পাকস্থলীর ভেতরের প্রদাহ কমাতে জাদুকরী ভূমিকা রাখে। লেবুর শরবতে এক চিমটি তোকমা কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, এটি শরীরের ভেতরে প্রাকৃতিক ‘কুলিং এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করে। ইফতারের শুরুতে এই পানীয়টি যেন সারাদিনের দহন শেষে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি।

বেলের শরবত : আমাদের আবহমান বাংলার ফল বেল। যার শক্ত খোলসের ভেতরে লুকিয়ে থাকে অমৃতসম শাঁস। সারাদিন উপবাসের পর অন্ত্র ঠিক রাখতে বেলের কোনো বিকল্প নেই। এটি যেন প্রকৃতির নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে তৈরি এক মহৌষধ- যা হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরকে ঝরঝরে করে তোলে। ইফতারের টেবিলে এক গ্লাস ঘন বেলের শরবত কেবল পানীয় নয়, বরং এটি আমাদের ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মুহূর্তেই দূর করে দেয় সব ক্লান্তি।

পুদিনার সতেজতা : ইফতারের আয়োজন মানেই কি শুধু ভাজাপোড়া? একঘেয়ে স্বাদে ভিন্নতা আনতে পারে এক মুঠো তাজা পুদিনা। এই সুগন্ধি লতাটি প্রাকৃতিকভাবেই পেট ফাঁপা রোধ করে এবং হজমে সহায়তা করে। বোরহানি কিংবা লেবুর শরবতে যখন সতেজ পুদিনা পাতা ছেঁচে দেওয়া হয়, তখন সেই ঘ্রাণেই অর্ধেক তৃষ্ণা মিটে যায়। কৃত্রিম ফ্লেভার নয়, বরং পুদিনার এই অকৃত্রিম সবুজ ঘ্রাণ মস্তিষ্ক ও মন উভয়কেই জাগিয়ে তোলে নিমিষে।

অ্যালোভেরা : নামটা শুনলে অনেকেই হয়তো ভ্রু কুঁচকাবেন, কিন্তু ইফতারে এক গ্লাস অ্যালোভেরার শরবত হতে পারে আপনার শরীরের জন্য সেরা ‘ডিটক্স ড্রিংক’। সামান্য মধু আর লেবুর সাথে ব্লেন্ড করা অ্যালোভেরা জেল শুধু স্বাদে ভিন্নতা আনে না, বরং এটি শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। সারাদিনের রোজায় শরীর যে ধকল সয়, ঘৃতকুমারীর স্নিগ্ধতা তা সারিয়ে তোলে খুব গোপনে, খুব যত্নে।

ডাবের পানি: সুপারশপের রঙিন বোতলজাত পানীয়ের ভিড়ে আমরা ভুলে যাই ডাবের পানির কথা— যা মহান আল্লাহর এক অপরূপ সৃষ্টি। এতে মেশানো নেই কোনো কৃত্রিম রং বা চিনি। আছে কেবল বিশুদ্ধ পটাশিয়াম ও মিনারেল, যা ঘামের সাথে বেরিয়ে যাওয়া লবণের ঘাটতি পূরণ করে চোখের পলকে। একে বলা যায় ‘ন্যাচারাল স্যালাইন’। ইফতারে এক চুমুক ডাবের পানি যেন শরীরের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেয় সজীবতার বার্তা।

ভাজাপোড়া একেবারে বাদ দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তবে এর পরিমাণ কমিয়ে প্লেটে যদি রংবেরঙের ফল আর ভেষজ পানীয়ের জায়গা বাড়ানো যায়, তবে এই রমজান হবে আরও সুস্থ ও প্রাণবন্ত। প্রকৃতির উপাদানেই মিলুক প্রশান্তি এবারের রমজানে এটাই হোক আমাদের সংকল্প।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ