নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোক:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সূচিত হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। এক সময় যাকে বিনা ওয়ারেন্টে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল এবং উঁচু থেকে ফেলে পঙ্গু করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, সেই তারেক রহমানের নেতৃত্বেই এখন রচিত হচ্ছে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার নতুন আখ্যান। শপথ গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়ে তিনি দেশ ও বিদেশের নজর কেড়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত মানেই ছিল সাধারণ মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে স্থবির হয়ে থাকা। কিন্তু তারেক রহমান সেই প্রথা ভেঙে ফেলেছেন। তিনি নিজের নিরাপত্তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে ট্রাফিক আইন মেনে এবং কোনো বিশেষ রাস্তা বন্ধ না করেই চলাচল করছেন। বর্তমানে তার গাড়ি বহর ১৬-১৭টি থেকে কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ তার গাড়ির সাথে সেলফি তুলছে এবং তিনি হাত নাড়িয়ে জনতাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এমন দৃশ্য দেশের রাজনীতিতে বিরল।
নির্বাচনে বিজয়ের পর পরাজিত ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তারেক রহমান এক অনন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার প্রদর্শন করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং চরমোনাই পীরের সাথে তার সাক্ষাৎ সৌহার্দ্য ও ঐক্যের রাজনীতির নতুন বার্তা দিচ্ছে। এছাড়া গণতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকারের পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটিও দেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীকে ভারতে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচারের পথ প্রশস্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আসামিরা পালিয়ে গেলেও বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাত্র ২২ দিনে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
নতুন সরকারের অধীনে কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত গাড়ি বা সরকারি প্লট নেবেন না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে সাদামাটা জীবন যাপন করছেন এবং বিদ্যুৎ বিলাসিতা পরিহার করেছেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদের জন্য এসএসএফের বিশেষ নিরাপত্তাও তিনি ত্যাগ করেছেন। প্রশাসনে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন করা হচ্ছে এবং দুর্নীতি মোকাবিলায় ঘোষণা করা হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প চালু হতে যাচ্ছে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার জলাশয় খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল থেকে শুরু হবে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকল অভিমান ভুলে ভারতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বিএনপির শক্তিশালী কূটনীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের এই অভাবনীয় পরিবর্তন ও জনমুখী পদক্ষেপগুলো দেশবাসীকে এক সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।








